ঢাকা, বুধবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুডিসের সুখবর: বাংলাদেশের ঋণমান এখন ‘স্থিতিশীল’

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২২:৪৮, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২৩:০৪, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

ঢাকাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সুসংবাদ এসেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে গতি এবং রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় আসার ওপর ভর করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এর সুবাদে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা মুডিস রেটিংস বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ থেকে বাড়িয়ে আবার ‘স্থিতিশীল’ করেছে। তবে দেশের ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা ও খেলাপি ঋণের উচ্চ হার অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশের বর্তমান মূল রেটিং ‘বি২’ (B2)-তেই অপরিবর্তিত রেখেছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত মুডিসের নতুন মূল্যায়নে বলা হয়েছে, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নতুন সরকারের প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন থাকায় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখন কাটে উঠতে শুরু করেছে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার কাজে বড় কোনো রাজনৈতিক বাধা তৈরি হচ্ছে না। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ধারাবাহিক ঋণ ও কারিগরি সহযোগিতা দেশের সার্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। 

এর আগে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বাংলাদেশের ঋণমান কমিয়ে ‘নেতিবাচক’ করেছিল এই বৈশ্বিক ঋণমান সংস্থাটি।আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মুডিসের এই ইতিবাচক মূল্যায়নের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের আর্থিক ভাবমূর্তি ও সুনাম অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। এর সরাসরি সুফল হিসেবে বিদেশি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশের স্থানীয় ব্যাংকগুলোর জন্য ডলার বা বৈদেশিক ঋণের সীমা (ক্রেডিট লাইন) বাড়িয়ে দেবে। যা দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ শর্তে আমদানি বাণিজ্য সচল রাখা এবং এলসি (ঋণপত্র) খোলার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

মুডিসের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে হুন্ডিমুক্ত রেকর্ড রেমিট্যান্স আসার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের রিজার্ভে। ফলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে, যা দিয়ে চার মাসেরও বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। 

অথচ ২০২৪ সালে এই রিজার্ভের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে ২১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। রিজার্ভের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে মুডিস। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরগুলোতে এই প্রবৃদ্ধির ধারা আরও বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে আশাবাদের পাশাপাশি কিছু বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়েও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

মুডিস জানিয়েছে, দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৩২ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এই বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ সামাল দিতে বড় অংকের মূলধন প্রয়োজন, যা সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে। এর বাইরে দেশের দুর্বল রাজস্ব আদায় ব্যবস্থা, মোট রাজস্বের একটি বড় অংশ ঋণের সুদ পরিশোধে চলে যাওয়া এবং বিদ্যুৎ খাতের ঘাটতিকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে মুডিস।

এমএইচ 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি