ঢাকা, রবিবার   ২৫ অক্টোবর ২০২০, || কার্তিক ১১ ১৪২৭

Ekushey Television Ltd.

সুপার ওভারে গড়াল ফাইনাল

প্রকাশিত : ০০:০৮ ১৫ জুলাই ২০১৯ | আপডেট: ০০:০৮ ১৫ জুলাই ২০১৯

প্রথম দিকে একপেশে মনে হলেও শেষদিকে এসে ব্যাপক জমে যায় লর্ডসের ফাইনাল। চরম উত্তেজনা ছড়ানো এ ম্যাচে কিউই বোলারদের কাছে নাটকীয়ভাবে হার মানে ইংল্যান্ড। পেন্ডুলামের মত দুলতে থাকা চরম উত্তেজনাকর ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত টাই হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত সুপার ওভারে গড়ায় ফাইনাল।

২৪২ রানের লক্ষ্যে নেমে কিউই পেসারদের তোপে ৮৬ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে প্রথমবার শিরোপার স্বাদ নিতে মরিয়া ইংল্যান্ড। টপ অর্ডারের অমন ব্যর্থতার পর মিডল অর্ডারে প্রতিরোধ গড়েছেন অলরাউন্ডার বেন স্টোকস ও উইকেটকীপার জস বাটলার। পঞ্চম উইকেটে তাদের ১১০ রানের জুটিতে জয়ের লক্ষ্যেই ছিলো ইংল্যান্ড।

তবে শেষ পাঁচ ওভারে পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে ফাইনালের এ ম্যাচটিকে উত্তেজনার চরমে পৌঁছে দেয় কিউই পেসাররা। শেষ ওভারে তো আরও রোমাঞ্চ ছড়ান ইংলিশ অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। ৬ বলে দরকার ছিলো ১৫ রান। পরপর দুই বলে ১২ রান নিয়ে ম্যাচ নিজেদের করে নেন তিনি। তবে এর পর দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচ টাই করে নিউজিল্যান্ড।

ইংল্যান্ডের ইনিংসের শুরুতে বোল্ট আগুন ঝরালেও ইংলিশদের ইনিংসে পরপর চারবার তোপ দাগেন হেনরি-গ্রান্ডহোম-ফার্গুসন-নিশাম। টপাটপ রয়-রুট-বেয়ারস্টো-মরগানকে তুলে নিয়ে লো-স্কোরিং ফাইনালটি উত্তেজনাময় করে তুলেছেন কিউই চতুর্থী। তাদের তোপের মুখে রয় ১৭, রুট ৭, বেয়ারস্টো ৩৯ এবং দলীয় ক্যাপ্টেন ইয়ন মরগান ৯ রানে আউট হন।

লর্ডসের ফাইনাল ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েও দলীয় ২৯ রানের মাথায় বিদায় নেন গাপটিল। এরপর নিকোলসের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন কিউই কাণ্ডারি কেন উইলিয়ামসন। তবে প্লাঙ্কেট-ওকসের বোলিং তোপে ৮ উইকেট খুইয়ে শেষ পর্যন্ত ২৪১ রান সংগ্রহে সামর্থ হয় নিউজিল্যান্ড। ফলে প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন হতে ইংলিশদের দরকার ২৪২ রান।

লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত ফাইনাল দিয়ে শেষ হচ্ছে বিশ্বকাপের ৪৬ দিন ব্যাপী আসর। পর্দা নামছে ইংল্যান্ডে বসা ক্রিকেট বিশ্বকাপের ১২তম আসরের। বৃষ্টিতে মাঠ ভেজা থাকায় টস হতে ১৫ মিনিট দেরি হয়। টস হয় বাংলাদেশ সময় ৩টা ১৫ মিনিটে, ম্যাচ শুরু হয় ৩টা ৪৫ মিনিটে। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে গাজী টিভির পর্দায়।

রোববার (১৪ জুলাই) দীর্ঘ ২৭ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ওঠা নিউজিল্যান্ড। লর্ডসের এ ফাইনালে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কিউই দলপতি কেন উইলিয়ামসন।

তবে আগে ব্যাটিং করে ইংলিশ বোলারদের বিশেষ করে লিয়াম প্লাঙ্কেট ও ক্রিস ওকসের তোপের মুখে পড়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারেন নি কেউই। যদিও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৭৪ রান তুলে প্রতিরোধের ইঙ্গিত দেন বাঁহাতি ওপেনার হেনরি নিকোলস ও দলপতি কেন উইলিয়ামসন।

এর মধ্যে নিকোলস ফিফটি করে আউট হলেও ফাইনালের মঞ্চে ত্রিশের ঘরেই কাঁটা পড়েন আসর সেরা হওয়ার দৌড়ে থাকা কিউই ব্যাটিং কাণ্ডারি উইলিয়ামসন। আর মাঝের দিকে কিছুটা লড়াই করেন নিউজিল্যান্ডের স্কোরকে আড়াইশ`র কাছাকাছি পৌঁছে দিতে সাহায্য করেন উইকেটকীপার ব্যাটসম্যান টম ল্যাথাম। যার ফলে দুর্দান্ত ইংলিশদের সামনে ২৪২ রানের লক্ষ্য দাঁড় করে ব্ল্যাক হর্সরা।

ইংলিশ বোলিং তোপে শুরুতেই লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন কিউই ওপেনাররা। তবে রিভিউ নিয়ে প্রথমবার বেঁচে গেলেও দ্বিতীয়বার আর বাঁচতে পারেননি গাপটিল। ইনিংসের ৭ম ওভারে ক্রিস ওকসের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে মোটেও ভালো করতে না পারা কিউই এ ওপেনার ফেরার আগে ১৮ বলে দুই চার আর এক ছক্কায় করেন মাত্র ১৯ রান।

এরপর দলীয় ১০৩ রানে উইলিয়ামসন এবং ১১৮ রানে সাজঘরে ফেরেন আরেক ওপেনার হেনরি নিকোলস। কিউই কাণ্ডারি ব্যক্তিগত ৩০ রানে প্লাঙ্কেটের শিকার হয়ে ফিরলে স্বভাবতই চাপে পড়ে দল। ফেরার আগে নিকোলসের সঙ্গে ৭৪ রানের জুটি গড়েন তিনি।

পরে সেই চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়ে ফেরেন ফিফটি পাওয়া নিকোলস। এবারো ঘাতক সেই লিয়াম প্লাঙ্কেট। এই ইংলিশ পেসারের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে ৭৭ বলে চার বাউন্ডারিতে ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৫ রান আসে বাঁহাতি এ ওপেনারের উইলো থেকে।

এরপর ইনিংসের ৩২তম ওভারে দলীয় ১৪১ রানে চতুর্থ উইকেট পড়ে কিউইদের। মাত্র ১৫ রান করে আউট হন নির্ভরযোগ্য রস টেইলর। মার্ক উডের বলে লেগ বিফোর হন এই মিডল অর্ডার। এরপর মাত্র তিন রানের জন্য ফিফটি বঞ্চিত হয়ে ফেরেন টম ল্যাথাম (৪৭)। ইংলিশ বোলারদের মধ্যে ওকস ও প্লাঙ্কেট তিনটি করে এবং আর্চার ও উড একটি করে উইকেট লাভ করেন।

এনএস/


New Bangla Dubbing TV Series Mu
New Bangla Dubbing TV Series Mu

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি