‘রিমার্কের হাত ধরে বাংলাদেশের কসমেটিকস খাত রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হবে’
প্রকাশিত : ১৫:২৬, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৫৮, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশে উৎপাদিত কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্যের মান ও উৎপাদন সক্ষমতার প্রশংসা করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, রিমার্কের মতো প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগের মাধ্যমে কসমেটিকস খাতে বাংলাদেশ আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানিমুখী দেশে পরিণত হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) হল-৪-এ তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে রিমার্ক-হারল্যানের প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিষ্ঠানটির প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্য ঘুরে দেখেন শামা ওবায়েদ। এ সময় তিনি পণ্যের বৈচিত্র্য, উৎপাদনপ্রক্রিয়া, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি), প্যাকেজিং, কাঁচামাল, মান নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজ নেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে কসমেটিকস উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ছে। রিমার্কের উদ্যোগ অনুসরণ করে বাংলাদেশ এ খাতে আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন আন্তর্জাতিক মানের কসমেটিকস ও পার্সোনাল কেয়ার পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। মান বজায় রেখে উৎপাদন বাড়ানো এবং বিদেশের বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে এ শিল্প দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
এবারের ‘কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬’-এ ১৬টি দেশের ৫৮টি প্রতিষ্ঠান ও ১৩২টি ব্র্যান্ড অংশ নিচ্ছে। প্রদর্শনীর সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে রিমার্ক-হারল্যান গ্রুপ।
রিমার্ক-হারল্যানের পরিচালক (ফার্মা) সুকান্ত দাস বলেন, দেশের কসমেটিকস ও পার্সোনাল কেয়ার শিল্প পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ শিল্পকে শুধু অভ্যন্তরীণ বাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত করতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬’ আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সম্ভাব্য অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশের কসমেটিকস খাতের যোগাযোগ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে দেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও রপ্তানির সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বরে রিমার্ক-হারল্যান বাংলাদেশের কসমেটিকস খাতে গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (জিএমপি) সনদ পায়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম cGMP, ISO ও Halal মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে।
রিমার্কের দাবি, বাংলাদেশে উৎপাদিত তাদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পণ্য দেশের পাশাপাশি ভারত, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাজারেও যাচ্ছে। ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারে লিলি, নিওর ও সিওডিলসহ কয়েকটি ব্র্যান্ডের পণ্য বাজারজাত শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ভারতের অন্য রাজ্যগুলোতেও বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, রিমার্ক-হারল্যানের পরিচালক (ফার্মা) সুকান্ত দাস, হারল্যান স্টোরের হেড অব মার্কেটিং মো. হাবিবুল্লাহ হাবিব, রিমার্ক-হারল্যানের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর মিজানুর রহমানসহ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ‘কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬’ শুধু পণ্য প্রদর্শনের আয়োজন নয়; এর মাধ্যমে দেশের প্রসাধনী ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা শিল্পের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সম্ভাব্য অংশীদারদের যোগাযোগ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়েরও সুযোগ থাকছে।
তিন দিনের এ প্রদর্শনীতে শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, মেকআপ শিল্পী ও সাধারণ দর্শনার্থীরা অংশ নিতে পারবেন।
এমএইচ
আরও পড়ুন










