ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বকালের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ’-এর ঘোষণ ট্রাম্পের
প্রকাশিত : ০৯:১৪, ২০ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০৯:১৭, ২০ আগস্ট ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বকালের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ’ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছানোর পর বুধবার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ইরান সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এখন তাদের অভূতপূর্ব মাত্রার অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতার মুখোমুখি হতে হবে। তিনি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যকারী দেশের ওপরও কঠোর বার্তা দেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন যে, যেসব দেশ ইরানের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থাকে সহায়তা বা 'লাইফলাইন' দেবে, তাদেরও ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তেল চোরাচালান, সোয়াপ লাইন, নগদ অর্থ স্থানান্তর, মানি এক্সচেঞ্জ হাউস, জাহাজ নিবন্ধন এবং ‘ফ্রন্ট কোম্পানি’র কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়ে তিনি এটিকে একটি ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ও ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’যুক্তরাষ্ট্র গত এপ্রিল থেকে ইরানের বিরুদ্ধে তেহরানের আয়ের উৎস বন্ধ ও তাদের বিচ্ছিন্ন করতে Operation Economic Fury-র অধীনে চাপ প্রয়োগ করে আসছে। জ্বালানি রপ্তানি বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই তেল, জাহাজ চলাচল ও আর্থিক খাতের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি করেছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়াইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না আসলেও দেশটির গণমাধ্যম এ ঘোষণাকে উড়িয়ে দিয়েছে: আইআরআইবি (IRIB): রাষ্ট্রীয় এই সম্প্রচারমাধ্যম জানায়, মার্কিন 'সামরিক আগ্রাসনের ব্যর্থতা'র পরই নতুন করে এই হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তাসনিম নিউজ: আধা-সরকারি এই সংস্থা উল্লেখ করে, যুক্তরাষ্ট্রের এই চেষ্টা বহু পুরোনো। তবে ইরান বহু বছর ধরেই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার কৌশল শিখেছে এবং এতে তারা অত্যন্ত দক্ষ। ফার্স নিউজ: ট্রাম্পের দাবিকে "কল্পনাবিলাস" আখ্যা দিয়ে তারা জানায়, আমেরিকা বারবার ইরানের পতনের কথা বললেও বাস্তবে কোনো ফলাফল দেখাতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতামত ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জAl Jazeera-র সাংবাদিক মাইক হানা জানান, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ চলমান অচলাবস্থা নিয়ে তাঁর এক ধরণের "হতাশা"র বহিঃপ্রকাশ। অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা না থাকায় এটি কেবল রাজনৈতিক হুংকার কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন চীন, ইরাক ও তুরস্কের ওপর পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা (Secondary Sanctions) আরোপ করতে পারে:চীনের ভূমিকা: ব্রান্ডেইস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাদের হাবিবির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মূল টার্গেট হতে পারে চীনের স্বাধীন 'টিপট রিফাইনারি'গুলো, যারা এখনও ইরানের তেল কিনছে। তবে চীন সরকার তাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা না মানার নির্দেশ দিয়েছে।
সীমান্ত ও ব্যাংকিং ঝুঁকি: তুরস্ক ও ইরাকের সাথে স্থলপথের বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন, কারণ এর জন্য স্থানীয় সরকারের সরাসরি সহযোগিতা প্রয়োজন। অন্যদিকে, অবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজরস-এর ব্রেট এরিকসনের মতে, চীনা ব্যাংকগুলোর ওপর মার্কিন বিধিনিষেধ আরোপ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরণের প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
আরও পড়ুন










