ঢাকা, শুক্রবার   ২১ আগস্ট ২০২৬

সুদানজুড়ে মানবিক বিপর্যয়, বাস্তুচ্যুত ২ লাখের বেশি

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৫:৪৩, ২০ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৪৮, ২০ আগস্ট ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

সুদানের করদোফান অঞ্চলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আধা-সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) তীব্র লড়াইয়ের জেরে নতুন করে ২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

একই সঙ্গে প্রধান অবকাঠামোগুলোতে ড্রোন হামলা ও মৌসুমি বন্যার কারণে দেশটির মানবিক সংকট চরম রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব সতর্কবার্তা দিয়েছে।

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, করদোফানের অন্যতম প্রধান শহর ‘এল ওবেইদ’ এবং শেইকান জেলায় গত আট মাসে বাস্তুচ্যুতি ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এল ওবেইদের বিদ্যুৎ রূপান্তরকেন্দ্রে ড্রোন হামলার ফলে পুরো শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে পানি সরবরাহ, হাসপাতাল পরিচালনা ও টেলিফোন যোগাযোগের ওপর।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংঘাতের কারণে ব্লু নাইল অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৭৮ হাজার এবং পশ্চিম দারফুরে আগস্টের প্রথমার্ধে প্রায় ১৮ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। অন্যদিকে, উত্তর দারফুরের তাউইলায় ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ১,৩৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ১ হাজারের বেশি পরিবার গৃহহীন হয়েছে।

আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, "সুদান বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় বাস্তুচ্যুতি সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে। সংঘাত, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষতি এবং মারাত্মক বন্যার সম্মিলিত প্রভাব হাজার হাজার পরিবারকে চরম দুর্ভোগের মুখে ঠেলে দিয়েছে।"

আল জাজিরার সংবাদদাতা আলমিগদাদ আলরুহাইড জানান, সেনা নিয়ন্ত্রিত এল ওবেইদ শহরটি যুদ্ধের দীর্ঘতম অবরোধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আরএসএফ শহরের দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে অবস্থান নিয়ে সেনাবহর, তেলের ট্যাঙ্কার ও পণ্যবাহী ট্রাকে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।

সংবাদ মাধ্যম ‘সুদান ট্রিবিউন’ জানায়, যুদ্ধের আগে শহরটির জনসংখ্যা সাড়ে ৭ লাখ থাকলেও বাস্তুচ্যুত মানুষের ঢলে তা এখন ৩৪ লাখে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই সেখানে প্রায় ৩৯ হাজার শিশু আশ্রয় নিয়েছে।

 ২০২৩ সালের এপ্রিলে সংঘাত শুরুর পর থেকে নিহত প্রায় ৫৯,০০০ মানুষ। অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত: প্রায় ৮৬ লাখ মানুষ। শরণার্থী: প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে ৪২ লাখের বেশি মানুষ।
এমএইচ/ সূত্র আল জাজিরা 
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি