গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার ১০০ মরদেহের দাফন
প্রকাশিত : ১৯:২৫, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৪০, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
উত্তর গাজার জেইতুন এলাকার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনির মরদেহের দাফন সম্পন্ন করেছেন স্বজনরা। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৬০ জন শিশু রয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) পরিবারের সদস্যরা জেইতুন এলাকা থেকে মরদেহ ও দেহাবশেষ গাজা শহরের মধ্যাঞ্চলের আল-মামাদানি কবরস্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
আল-জাজিরার প্রতিবেদক গাজি আল-আলুল জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় চলা ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন পরিবারের সদস্য ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা।
নিহতদের মধ্যে মালাকা পরিবারের ৫৫ জন সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এসব পরিবার তাদের স্বজনদের যথাযথভাবে দাফনের সুযোগ পেয়েছে।
তবে উদ্ধার করা বেশিরভাগ মরদেহই অক্ষত ছিল না। কাফনে মোড়ানো দেহাবশেষের মধ্যে মূলত হাড় ও ব্যক্তিগত সামগ্রীর টুকরো পাওয়া গেছে। বিশেষ করে শিশুদের দেহাবশেষ শনাক্ত করা ছিল অত্যন্ত কঠিন।
গাজার সিভিল ডিফেন্স সার্ভিসের প্রধান রায়েদ আল-দাহশান জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও আনুমানিক ৮ হাজার মরদেহ আটকে রয়েছে। প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি ও সুরক্ষা সরঞ্জাম পাওয়া গেলে এসব মরদেহ উদ্ধারের কাজ প্রায় ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করা সম্ভব বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশের সুযোগ না পেলে উদ্ধারকাজ বছরের পর বছর ধরে চলতে পারে। উদ্ধারকাজের জন্য এক্সকাভেটর, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ও অনুসন্ধানী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন রয়েছে।
দেহাবশেষ শনাক্ত করতে উদ্ধারকারীরা জীবিত স্বজন ও প্রতিবেশীদের তথ্যের ওপর নির্ভর করছেন। হামলার সময় কোন ভবনে কারা ছিলেন, সেই তথ্যের ভিত্তিতে ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। প্রকৌশলীদের একটি দল উদ্ধার করা দেহাবশেষ বাছাই ও নথিবদ্ধ করতেও সহায়তা করছে।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের প্রধান অজিত সুংঘে বলেন, এই দৃশ্যগুলো গাজা সংঘাতের ‘বর্বরতার’ কথা মনে করিয়ে দেয়। তিনি জানান, উদ্ধার করা কিছু দেহাবশেষ ২০২৩ সালের নভেম্বরের।
তিনি বলেন, এখনও হাজার হাজার মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন। অনেক এলাকায় প্রবেশ কঠিন হওয়ায় উদ্ধারকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য জবাবদিহির জন্য উদ্ধার করা প্রমাণ সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ৬৫১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৯২ জন আহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পৃথক উদ্ধার অভিযানে আবু শারিয়াহ ও হাসানিয়া পরিবারের ১০০ জনের বেশি সদস্যের মরদেহ এবং আল-তাজ টাওয়ার এলাকায় ৫০০-এর বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
আরও পড়ুন










