ব্যাটিং ব্যর্থতায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ
প্রকাশিত : ১৭:৪০, ২১ জুন ২০২৬
মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতে আত্মবিশ্বাস নিয়েই চট্টগ্রামে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ভেন্যু আর ফরম্যাট বদলের সঙ্গে বদলে গেছে স্বাগতিকদের পারফরম্যান্স গ্রাফও।
ব্যাটারদের ধারবাহিক ব্যর্থতায় প্রথম দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ খুইয়েছিল আগেই। তাই আজকের ম্যাচটি ছিল মান বাঁচানোর লড়াই। কিন্তু এখানেও ব্যর্থ টাইগাররা। ৫৪ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের বড় জয়ে টাইগারদের হোয়াইটওয়াশ করল অজিরা।
তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নেমে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে মাত্র ১০৯ রান তোলে স্বাগতিকরা।
এদিকে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১ রান তোলে বাংলাদেশ, আর ৯ ওভারে ৩৬ রান আসে ৫ উইকেট হারিয়ে। তাদের কেউই দুই অঙ্কে যেতে পারেননি।
ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে দলকে কেবল পথ দেখান অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। আসা-যাওয়ার মিছিলের মাঝেই একপাশে আগলে ৫১ বলে করেন অপরাজিত ৬১ রান। যা দলকে তিন অঙ্কের ঘরে নিয়ে যায়।
১.৩ ওভারে ধসের শুরুটা হয় তানজিদ তামিমকে দিয়ে। ২ বলে ৫ রান করে অনাকাঙ্ক্ষিত রান আউট হন তিনি। সাইফ হাসানের ব্যাট থেকে বল বোলারের হাত ছুঁয়ে আঘাত করে স্টাম্পে।
উইকেট থেকে আগেই বেরিয়ে আসায় আউট হয়ে যান তামিম। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই এক বল পর ফেরেন সাইফও। ৯ বলে ১ রান করে আউট হন তিনি। ৭ রানে ২ উইকেট হারায় দল।
তৃতীয় উইকেটের পতন হয় ৫ম ওভারের শেষ বলে। দারুণ ছন্দে থাকা পারভেজ ইমন এবার ফেরেন নাথান এলিসের শিকার হয়ে। ১৩ বল থেকে স্বভাববিরুদ্ধ মাত্র ১ রানে শেষ হয় তার ইনিংস।
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে কোনো ইনিংসে বল খেলা ব্যাটসম্যানদের সর্বনিস্ন স্ট্রাইক রেট এটি। এই যখন অবস্থা তখন ইনিংসের হাল ধরেন হৃদয়, খেলতে থাকেন ধীরে-সুস্থে দেখেশুনে।
তার ব্যাটে যখন ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছে দল, তখন বিপদ আরও বাড়িয়ে ফেরেন নুরুল হাসান সোহান (৮ বলে ৬) ও শামিম পাটোয়ারী (৫ বলে ০)। ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
সিরিজে পুরোপুরি ব্যর্থ ছিলেন শামিম। আগের দুই ম্যাচে ৪ বলে ১ ও ৮ বলে করেন ৭ রান। আর সোহান চলতি বছর প্রথমবার জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নেমে হতাশ করেন।
এই যখন অবস্থা, তখন কিছুটা ভালো করেন রিশাদ হোসেন। হৃদয়ের সাথে ২০ বলে ২৬ রানের ছোট জুটি গড়েন তিনি। আউট হওয়ার আগে দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে পৌঁছান দুই অঙ্কে, (১৪ বলে ১৬)।
এরপর নাসুম আহমেদ নেমে রান পাননি (০), ১৩ ওভারে ৬৫ রানে ৭ উইকেট হারায় দল। এরপর খেলাটা একাই ধরে রাখেন হৃদয়। অন্যদিকে শরীফুল ১৪ বলে ৭ ও তাসকিন ৩ বলে ২* রান করেন।
অজিদের হয়ে স্পেন্সার জনসন ৪ ওভারে ৬ রানে শিকার করেন ২ উইকেট। জোড়া উইকেট নেন নাথান এলিস ও অ্যাডাম জ্যাম্পাও।
এরপর ব্যাট হাতেও বাংলাদেশকে সুযোগ দেয়নি অজিরা। অধিনায়ক মিচেল মার্শ একাই খেলেন ৭ চার, ৪ ছক্কায় ২৮ বলে ৬০ রানের ইনিংস। টিম ডেভিড ৩ বলে ১২ রানে অপরাজিত থাকেন।
মাঝে জশ ইংলিস ১৮, কোপার কনোলি ১৫ রানে আউট হন। বাংলাদেশের হয়ে শরীফুল, নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন একটা করে উইকেট নেন।
এমআর//










