আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা আলজেরিয়ার
প্রকাশিত : ২২:৩৫, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ তুলে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে আলজেরিয়া। তবে সম্পর্ক ছিন্ন করার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি উত্তর আফ্রিকার দেশটি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আলজেরিয়ার সরকার এ ঘোষণা দেয় বলে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আমিরাতের কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আর মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য আলজেরিয়া শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ঘোষণার পর আলজেরিয়ায় নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়। তাঁকে আলজেরিয়া ছাড়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আলজেরিয়ার ঘোষণার পর আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি সরাসরি আলজেরিয়ার নাম উল্লেখ করেননি।
গারগাশ বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক কোনো ধাঁধা বা সংকেতের সমাধান নয়। বরং এর ভিত্তি হওয়া উচিত যুক্তি, যোগাযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়ে স্পষ্টতা। তাঁর ভাষ্য, সফল কূটনীতি স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ এবং স্বার্থ ও মতপার্থক্য কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ওপর নির্ভর করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলজেরিয়া ও আমিরাতের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। আলজেরিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমিরাতের সমালোচনা করে দেশটির বিরুদ্ধে আঞ্চলিক বিরোধ উসকে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থানও বিপরীত। আলজেরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরোধিতা করে আসছে। অন্যদিকে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর আওতায় আমিরাত ও আলজেরিয়ার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
পশ্চিম সাহারা নিয়েও দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন। ওই অঞ্চলে একটি কনস্যুলেট স্থাপনের মাধ্যমে মরক্কোর সার্বভৌমত্বের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে আমিরাত। বিপরীতে পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতার দাবিতে লড়াইরত পোলিসারিও ফ্রন্টকে সমর্থন করে আলজেরিয়া।
আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলেও দুই দেশের স্বার্থ ও নীতিতে পার্থক্য রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অঞ্চলটির কয়েকটি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে আমিরাত। অন্যদিকে একাধিক দেশে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দক্ষিণের প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলজেরিয়ার সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে।
গত বছর আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেল মাজিদ তাবুন বলেছিলেন, একটি দেশ ছাড়া পারস্য উপসাগরীয় সব দেশের সঙ্গেই আলজেরিয়ার উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি ওই দেশের নাম উল্লেখ না করলেও বক্তব্যটি আমিরাতকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কাতারের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে তাবুন নাম না বলা ওই দেশের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগও করেছিলেন।
এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমিরাতের সঙ্গে ২০১৩ সালের মে মাসে আবুধাবিতে সই হওয়া একটি বিমান পরিষেবা চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করে আলজেরিয়া।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন










