ইরানি হামলায় মার্কিন ঘাঁটিতে ধ্বংস শত শত ভবন ও ড্রোন দাবি পেন্টাগনের
প্রকাশিত : ২০:১৭, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২০:২২, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ঠিক কতখানি ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে, পেন্টাগনের এক গোপন প্রতিবেদনে তার এক চাঞ্চল্যকর চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। এতদিন ওয়াশিংটন ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করলেও, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ইন্সপেক্টরের সাধারণ কার্যালয়ের (আইওজি) এই নথিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন শক্তির বড় ধরনের বিপর্যয়ের তথ্য সামনে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত চলা এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র শত শত ভবন ও সামরিক স্থাপনা হারানোর পাশাপাশি কমপক্ষে ৩০টি এমকিউ-৯ (MQ-9) রিপার ড্রোন এবং বহু যুদ্ধবিমান খুইয়েছে। যুদ্ধের এই চার মাসেই শুধু অস্ত্রের পেছনে খরচ হয়েছে প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলার, আর সামগ্রিক মোট ব্যয় ছাড়িয়ে গেছে ৩৩ বিলিয়ন ডলার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার অফুরন্ত বলে দাবি করলেও, পেন্টাগনের এই প্রতিবেদনে বরং অস্ত্র ঘাটতি এবং সাপ্লাই চেইনে বড় ধরনের সংকটের কথা স্বীকার করা হয়েছে। ইরান ও তাদের মিত্রদের লাগাতার হামলায় কুয়েত, সৌদি আরব, ইরাক এবং জর্ডানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে থাকা শত শত অবকাঠামো ধূলিসাৎ হয়েছে।
এসব হামলায় সরাসরি সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং চার শতাধিক সেনা আহত হয়েছেন। এছাড়া আকাশে এবং মাটিতে ধ্বংস হওয়া সামরিক যানের তালিকায় রয়েছে এফ-১৫ই ফাইটার জেট, অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ স্টিলথ বিমান, রিফুয়েলিং ট্যাংকার এবং বিভিন্ন ধরনের সামরিক হেলিকপ্টার। শুধু সামরিক ঘাঁটিতেই নয়, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) থাকা মার্কিন কূটনৈতিক মিশন ও দূতাবাসগুলোতেও দফায় দফায় হামলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব কূটনৈতিক স্থাপনা মেরামত ও সুরক্ষার্থেই খরচ হয়েছে প্রায় ১৮৪ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে বাণিজ্যিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ থাকা অবস্থায় দুই দেশের এই কূটনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েন পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও বেশি অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সূত্র আল জাজিরা
আরও পড়ুন










