ঢাকা, বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গভীর সমুদ্রে এলএনজি টার্মিনাল, ২৬ ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৭:৩৮, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৮:০৫, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং সমুদ্রের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি নতুন কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে পৃথক প্রশ্নের জবাবে এসব পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নারী আসন-১৭-এর সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ এবং মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খানের প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসীমার ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানি নিয়োগে গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড শুরু হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জুলাই ২০২৬-এ একটি এলএনজি টার্মিনাল সাময়িক বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্যাস সরবরাহে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি দেখা দেয়। এতে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি সংসদে তুলে ধরেন সুলতানা আহমেদ।

ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উৎস, এলএনজি মজুত, শিল্পাঞ্চলভিত্তিক অগ্রাধিকার সরবরাহ এবং জরুরি জ্বালানি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চান তিনি।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্যাসের আকস্মিক সংকট মোকাবিলায় দেশীয় উৎস থেকে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের সম্ভাব্য গ্যাসসম্পদ শনাক্ত করতে বর্তমানে প্রায় ৪,৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি এবং ৪,২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক জরিপ পরিচালনার কথাও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর আরও ‍বলেন, বর্তমানে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতের চাহিদা এবং জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়িতে একটি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং মাতারবাড়ির স্থলভিত্তিক টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।

এছাড়া পায়রা বা মোংলা বন্দরসংলগ্ন এলাকা কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে গভীর সমুদ্রে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

ভোলায় পাওয়া গ্যাস এলএনজি হিসেবে প্রক্রিয়াজাত করে মূল ভূখণ্ডে এনে শিল্পখাতে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড এবং বিসিক শিল্পনগরীগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার খাত করা হয়েছে।

২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদের জন্য ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই পরিকল্পনায় সৌরবিদ্যুৎকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫,৫০০ মেগাওয়াট এবং বড় আকারের ভূমিভিত্তিক সৌরপ্রকল্প থেকে ৪,৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর পাশাপাশি বায়ু বিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ এবং কৃষিজমির সঙ্গে সমন্বিত অ্যাগ্রিভোলটেইক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, বিশেষায়িত ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সরঞ্জাম আমদানিতে বিভিন্ন ধরনের শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নতুন মূল্য কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যাটারিসহ রুফটপ সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় প্রতি ইউনিট ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে নির্ধারিত মুনাফা ও প্রিমিয়াম যোগ করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের মূল্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুসরণ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌর ব্যবস্থা স্থাপনকারী গ্রাহকেরা নিজেদের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে বিক্রি করতে পারবেন। এ সুবিধা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন নীতিমালা বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে সরকারি জমিতে পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশিকা ২০২৬, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার নীতিমালা ২০২৫, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫ এবং হালনাগাদ নেট মিটারিং গাইডলাইন ২০২৫ রয়েছে।

পাশাপাশি জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ২০২৫, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবসায়িক কাঠামো, অনশোর উইন্ড গাইডলাইন এবং কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থাপনার নির্দেশিকাও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের প্রত্যাশা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর পাশাপাশি এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধি

এমএইচ
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি