ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৩ আগস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও!

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৫:০৭, ১৩ আগস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম শাখা অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির

চট্টগ্রাম শাখা অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির

Ekushey Television Ltd.

চট্টগ্রামের অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও হওয়ার ঘটনায় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন, ব্যাংকটির সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং তার সহযোগী জাফরুল্লাহ তানভীর (২৫)। আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়েছেন।

এ ঘটনায় গত ১০ আগস্ট নগরের কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন অগ্রণী ব্যাংক লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ। মামলায় কামরুল ও তানভীরের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছেন কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শাখাটির ক্যাশ ও ভল্টের মূল দায়িত্বে ছিলেন সিনিয়র অফিসার কামরুল হোসেন। গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং সময়সূচি ও লেনদেন শেষে নগদ অর্থের হিসাবের সঙ্গে ভল্টে রাখা টাকার সামঞ্জস্য মেলানোর সময় বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে। পরবর্তী সময়ে ভল্টের রেজিস্টার, সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও অন্যান্য নথি বিস্তারিত পরীক্ষা করে মোট ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি পাওয়া যায়।

এজাহারে পুলিশকে কামরুলের দেওয়া তথ্যের বরাতে বলা হয়, ভল্টে টাকা গচ্ছিত রাখার সময় অত্যন্ত চতুরতার আশ্রয় নেওয়া হতো। ১ হাজার টাকার নোটের বড় বান্ডিলের মাঝখানে ১০০ টাকা বা তার চেয়ে কম মূল্যমানের নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল বাঁধতেন কামরুল। ফলে ওপর থেকে দেখে পুরো বান্ডিলে নির্ধারিত পরিমাণ টাকাই রয়েছে বলে মনে হতো, কিন্তু বাস্তবে ভেতরে অর্থের পরিমাণ থাকত অনেক কম।

এভাবে সরানো অর্থ দিয়ে হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ইশরাত অ্যাগ্রো নামে একটি গবাদিপশুর খামার গড়ে তোলা হয়, যার দেখভাল করতেন তানভীর। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে ওই খামারে বিভিন্ন জাতের ৫০ থেকে ৬০টি গরু রয়েছে।

তবে ব্যাংকের এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে গ্রেপ্তার জাফরুল্লাহ তানভীরের পরিবার। তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ বলেন, আমার ছেলে ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা বা গ্রাহক নন। তিনি আগে থেকেই গরুর খামার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার কাছে ব্যাংকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে, এমন কোনো তথ্য বা রেকর্ড ব্যাংক দেখাতে পারেনি।

আজিম উল্লাহর দাবি, কামরুল হোসেন লাভের চুক্তিতে তানভীরকে বিভিন্ন সময় টাকা দিতেন এবং পরে লাভসহ মূল টাকা ফেরত নিতেন। গত ৯ আগস্ট রাতে ফোন করে তানভীরকে ব্যাংকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে রাত ১টার দিকে তানভীরের মায়ের মোবাইলে কল দিয়ে তার ব্যাংকে আটকে থাকার কথা জানানো হয়। 

তিনি অভিযোগ করেন, ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে এবং ব্যাংকে ডেকে নিয়ে স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন জানান, ভল্টে এত বড় অঙ্কের অর্থ লোপাটের ঘটনায় শুধু একজন ক্যাশ ইনচার্জকে দায়ী করে তদন্ত শেষ করা ঠিক হবে না। শাখা ব্যবস্থাপনার তদারকি, ভল্ট পরিচালনার অভ্যন্তরীণ নিয়মকানুন এবং ব্যাংকের ভেতরের অডিট ব্যবস্থা ঠিকঠাক কাজ করছিল কি না, তাও নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি