ঢাকা, বুধবার   ১৯ আগস্ট ২০২৬

ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদনের অর্ধেকই যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগরে: মার্কিন কর্মকর্তা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:১০, ১৯ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১১:১৮, ১৯ আগস্ট ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

ওয়াশিংটন কর্তৃক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সরিয়ে কারাকাসে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বসানোর সাত মাস পর, ভেনেজুয়েলা তাদের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি কাইল হস্টভেইট এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার হিউস্টনে আয়োজিত শিল্প-সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে কাইল হস্টভেইট জানান, ভেনেজুয়েলায় দৈনিক উৎপাদিত ১.২৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের মধ্যে ৫ লাখ ব্যারেলেরও বেশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছে। তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার এই বিশেষ ধরনের অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) প্রক্রিয়াজাত করার উপযোগী করেই যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলো তৈরি করা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার তেল মূলত ভারী ও সালফার-যুক্ত  প্রকৃতির। এগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণ সহজ করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন ১ লাখ ব্যারেলেরও বেশি ‘ন্যাপথা’ ভেনেজুয়েলায় পাঠাচ্ছে, যা সেখানকার ভারী তেলের সাথে মেশানো হয়। এই প্রক্রিয়াকে ‘চমৎকার এক জ্বালানি অংশীদারিত্ব’ আখ্যা দিয়ে হস্টভেইট বলেন, “বাণিজ্যের উভয় পক্ষের জন্যই এর মাধ্যমে প্রকৃত সুফল তৈরি হচ্ছে।”

একই অনুষ্ঠানে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ (PDVSA)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট জোভানি মার্টিনেজ জানান, চলতি বছরের আগস্টের শেষ নাগাদ দেশে তেল উৎপাদন দৈনিক ১.২৪৫ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছাবে এবং সামগ্রিক রপ্তানি ১৯.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, শোধনাগারগুলোর আধুনিকায়ন এবং তেল তরল করার ‘ডাইলুয়েন্ট’ দেশেই উৎপাদন করা জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (EIA) হিসাবমতে, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি তেলের মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলায়—যার পরিমাণ আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল (বিশ্বের মোট মজুতের ১৭ শতাংশ)। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির উৎপাদন বিশ্ববাজারের ১ শতাংশে নেমে এসেছিল। তবে বর্তমানে উৎপাদন ও রপ্তানি উভয়ই দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তেল বিক্রির অর্থের নিয়ন্ত্রণ মার্কিন প্রশাসনের হাতে থাকবে। পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, তেলের টাকা বিশেষ একটি অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে এবং সেখান থেকে কারাকাসের জমা দেওয়া বাজেট অনুযায়ী মার্কিন তদারকিতে অর্থ ছাড় করা হচ্ছে।

গত জুলাইয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ১৩ বিলিয়ন (১,৩০০ কোটি) ডলারের বেশি আয় করেছে। জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, মূল রাজস্বের পরিমাণ আরও বেশি। তবে এই অর্থের সুনির্দিষ্ট আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

আমেরিকান গবেষণা সংস্থা ‘কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস’ গত জুনে এক প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনের এই নীতির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থাটি জানায়:

ভেনেজুয়েলার তেল, সোনা ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ বিক্রির অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্পষ্ট জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে।

কারাকাসের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের (যার নেতৃত্বে রয়েছেন মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ) সঙ্গে আলোচনায় দেশটির মূল বিরোধী দল ও সুশীল সমাজকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

স্পষ্ট গণতান্ত্রিক রূপরেখা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সেখানে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনব্যবস্থাকে দীর্ঘস্থায়ী করার ঝুঁকিতে ফেলছে।

উল্লেখ্য, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদোসহ ভেনেজুয়েলার মূল বিরোধী জোট গত মে মাসে একটি রাজনৈতিক রূপরেখা প্রস্তাব করেছিল, যেখানে দ্রুত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানানো হয়।

সূত্র: আল জাজিরা
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি