ঢাকা, সোমবার   ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখতে চায় ভারত

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২১:৩০, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২১:৩৪, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে মতবিরোধ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর স্থগিত হওয়ার মতো নানা জটিলতা থাকলেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে আগ্রহী নয়াদিল্লি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক পর্যায়ে মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান যোগাযোগ ও সম্পর্ক অটুট রাখাকে গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। রাজনৈতিক টানাপোড়েন যেন দুই দেশের সাধারণ মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে প্রভাবিত না করে, সে বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর স্থগিত হলেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা বন্ধ হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত ওই সফর স্থগিত করা হয়। এ পরিস্থিতিতেও ঢাকা-নয়াদিল্লির মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের রাজনীতি নিজস্ব গতিতে চললেও জনগণের প্রত্যাশা ও স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এবং পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অভিন্ন স্বার্থকে ভিত্তি করে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা। ফলে চুক্তিটির নবায়ন এখন দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন ভবিষ্যতে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। এ কারণে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পাশাপাশি পানি বণ্টন, বাণিজ্য ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সমঝোতা বাড়ানোর বিষয়টি আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

এমএইচ 
 


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি