সিপিডির মূল্যায়ন: সরকারের ছয় মাসে ১২ সূচকে অগ্রগতি, পিছিয়ে ১৯টি
প্রকাশিত : ১৪:৫৮, ২৪ আগস্ট ২০২৬
অর্থনীতি ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ৩১টি সূচকের মধ্যে ১২টিতে সামান্য অগ্রগতি হলেও পিছিয়ে গেছে ১৯টি ক্ষেত্র। বিএনপি সরকারের গেল ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে এমন চিত্রই তুলে ধরেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ—সিপিডি।
আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত “সরকারের ছয় মাস: পারফরম্যান্স পর্যালোচনা” শীর্ষক মিডিয়া ডায়ালগে এসব তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
সংস্থাটি বলছে, সরকারের সদিচ্ছা থাকলেও সঠিক সমন্বয় ও সক্ষমতার অভাবে এখনো টেকসই কোনো সংস্কার দৃশ্যমান নয়।
অর্থনীতিবিদ ড দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মূল্যায়নে উঠে আসে ৩১টি মূল অর্থনৈতিক সূচকের চিত্র—যার ১২টিতে এসেছে কিছুটা সুবাতাস, তবে অবনতি ঘটেছে বাকি ১৯টিতে। সার্বিক পরিস্থিতিতে প্রলম্বিত হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার।
সিপিডির পর্যালোচনায় অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবে স্থান পেয়েছে উৎপাদন ও শিল্প খাত। তীব্র গ্যাস সংকটে শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
একই সাথে প্রশাসনিক পদায়নে পেশাদারিত্বের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় প্রাধান্য পাওয়ার অভিযোগ করা হয়। গভীর উদ্বেগ জানানো হয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, মব জাস্টিস এবং সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ না হওয়া নিয়ে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রধান দুটো প্রত্যাশা ছিল অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বিগত ৬ মাসের সার্বিক পর্যালোচনায় এই দুটির একটিতেও আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি দেখা যায়নি, বরং দুই প্রত্যাশাতেই তৈরি হয়েছে এক ধরনের অস্বস্তি। বিগত সরকারের কাছ থেকে বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। টাকা সংকট, ব্যাংকিং খাতের করুণ দশা, অনাদায়ী ঋণ, অর্থ পাচার ও রাজস্ব ঘাটতির মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জ তাদের সামনে ছিল। তবে এগুলো সামলে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে আশানুরূপ গতি দেখা যায়নি।
তবে সব নেতিবাচকতার মাঝেই ইতিবাচক কিছু উদ্যোগের প্রশংসা করেছে সিপিডি। মেট্রোরেলে প্রবীণ নাগরিকদের ভাড়া ছাড়, কৃষক ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং চিকিৎসার সরঞ্জামাদিতে ট্যাক্স কমানোর সিদ্ধান্তকে শুভ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এমপিদের গাড়ি-প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচার, এআই দিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর বিষয়গুলো স্বস্তিদায়ক। তবে সার্বিকভাবে অর্থনীতিকে দ্রুত সচল করতে হলে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের বদলে সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচির দিকে যেতে হবে।
উচ্চমাত্রার কর আরোপ কিংবা উচ্চাভিলাষী বাজেটের চেয়ে সিপিডির তাগিদ—জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা। অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ফেরাতে প্রথাগত চিন্তার বাইরে এসে দৃশ্যমান ও কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমেই এগোতে হবে নতুন সরকারকে।
এএইচ
আরও পড়ুন










