ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৫ আগস্ট ২০২৬

২ লাখ আশ্রয়প্রার্থীর ভিসা বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:৪৮, ২৫ আগস্ট ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসায় প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করা প্রায় ২ লাখ মানুষের ভিসা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে সবচেয়ে বড় সংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা হতে পারে এটি। তবে প্রশাসনের এই উদ্যোগ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ নথি থেকে এ পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলেছে সংবাদমাধ্যমটি।

নথি ও কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বি-১ ও বি-২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পরে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন—এমন ব্যক্তিদের একটি অংশকে লক্ষ্য করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ২ লাখ আবেদনকারীর ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বি-১ ভিসা সাধারণত ব্যবসায়িক ভ্রমণ এবং বি-২ ভিসা পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

পরিকল্পনাটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের শনাক্ত করার পর তাদের ভিসা বাতিলের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগোট এপি-কে দেওয়া বক্তব্যে উদ্যোগটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার বক্তব্যের সারকথা হলো, কিছু বিদেশি স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করছেন এবং পরে দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের চেষ্টা করছেন।

এ ধরনের আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে ঠিক কতজনের ভিসা বাতিল করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেননি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তার মতে, প্রক্রিয়াটি এখনো চলমান থাকায় চূড়ান্ত সংখ্যা এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

প্রস্তাবিত এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে ভিসা নিয়ে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, ভিসার মেয়াদ, আশ্রয় আবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধতার বিষয়গুলো একে অপরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হলেও এগুলোর আইনি কাঠামো আলাদা। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষের ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আদালতে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন এই উদ্যোগ সেই বৃহত্তর নীতিরই আরেকটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হবে এবং শেষ পর্যন্ত কতজনের ভিসা বাতিল করা হবে, তা নির্ভর করবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য আইনি লড়াইয়ের ওপর।

এমএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি