Ekushey Television Ltd.

স্টোকস-বাটলার জুটিতে ছুটছে ইংল্যান্ড

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২৩:২২ ১৪ জুলাই ২০১৯ | আপডেট: ১২:৪০ ১৫ জুলাই ২০১৯

কিউই পেসারদের তোপে ৮৬ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে প্রথমবার শিরোপার স্বাদ নিতে মরিয়া ইংল্যান্ড। টপ অর্ডারের অমন ব্যর্থতার পর মিডল অর্ডারে প্রতিরোধ গড়েছেন অলরাউন্ডার বেন স্টোকস ও উইকেটকীপার জস বাটলার। পঞ্চম উইকেটে তাদের শতাধিক রানের জুটিতে জয়ের লক্ষ্যে ছুটছে ইংল্যান্ড। 

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪৪ ওভারে ইংলিশদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৮৯ রান। বেন স্টোকস ৫০ রানে এবং জস বাটলার ৫৩ রানে ক্রিজে আছেন। তাদের এ জুটির ফলে উইকেট ফেলতে না পেরে হতাশ কিউইরা। বডি ল্যাঙ্গুয়েজই যেন চেঞ্জ হয়ে গেছে উইলিয়ামসনদের। দেখে মনে হচ্ছে- জিততে নয়, রানার-আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে চায় নিউজিল্যান্ড। 

ইংল্যান্ডের ইনিংসের শুরুতে বোল্ট আগুন ঝরালেও ইংলিশদের ইনিংসে পরপর চারবার তোপ দাগেন হেনরি-গ্রান্ডহোম-ফার্গুসন-নিশাম। টপাটপ রয়-রুট-বেয়ারস্টো-মরগানকে তুলে নিয়ে লো-স্কোরিং ফাইনালটি উত্তেজনাময় করে তুলেছেন কিউই চতুর্থী। তাদের তোপের মুখে রয় ১৭, রুট ৭, বেয়ারস্টো ৩৯ এবং দলীয় ক্যাপ্টেন ইয়ন মরগান ৯ রানে আউট হন।

লর্ডসের ফাইনাল ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েও দলীয় ২৯ রানের মাথায় বিদায় নেন গাপটিল। এরপর নিকোলসের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন কিউই কাণ্ডারি কেন উইলিয়ামসন। তবে প্লাঙ্কেট-ওকসের বোলিং তোপে ৮ উইকেট খুইয়ে শেষ পর্যন্ত ২৪১ রান সংগ্রহে সামর্থ হয় নিউজিল্যান্ড। ফলে প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন হতে ইংলিশদের দরকার ২৪২ রান।

লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত ফাইনাল দিয়ে শেষ হচ্ছে বিশ্বকাপের ৪৬ দিন ব্যাপী আসর। পর্দা নামছে ইংল্যান্ডে বসা ক্রিকেট বিশ্বকাপের ১২তম আসরের। বৃষ্টিতে মাঠ ভেজা থাকায় টস হতে ১৫ মিনিট দেরি হয়। টস হয় বাংলাদেশ সময় ৩টা ১৫ মিনিটে, ম্যাচ শুরু হয় ৩টা ৪৫ মিনিটে। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে গাজী টিভির পর্দায়।

রোববার (১৪ জুলাই) দীর্ঘ ২৭ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ওঠা নিউজিল্যান্ড। লর্ডসের এ ফাইনালে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কিউই দলপতি কেন উইলিয়ামসন। 

তবে আগে ব্যাটিং করে ইংলিশ বোলারদের বিশেষ করে লিয়াম প্লাঙ্কেট ও ক্রিস ওকসের তোপের মুখে পড়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারেন নি কেউই। যদিও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৭৪ রান তুলে প্রতিরোধের ইঙ্গিত দেন বাঁহাতি ওপেনার হেনরি নিকোলস ও দলপতি কেন উইলিয়ামসন।
 
এর মধ্যে নিকোলস ফিফটি করে আউট হলেও ফাইনালের মঞ্চে ত্রিশের ঘরেই কাঁটা পড়েন আসর সেরা হওয়ার দৌড়ে থাকা কিউই ব্যাটিং কাণ্ডারি উইলিয়ামসন। আর মাঝের দিকে কিছুটা লড়াই করেন নিউজিল্যান্ডের স্কোরকে আড়াইশ'র কাছাকাছি পৌঁছে দিতে সাহায্য করেন উইকেটকীপার ব্যাটসম্যান টম ল্যাথাম। যার ফলে দুর্দান্ত ইংলিশদের সামনে ২৪২ রানের লক্ষ্য দাঁড় করে ব্ল্যাক হর্সরা। 

ইংলিশ বোলিং তোপে শুরুতেই লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন কিউই ওপেনাররা। তবে রিভিউ নিয়ে প্রথমবার বেঁচে গেলেও দ্বিতীয়বার আর বাঁচতে পারেননি গাপটিল। ইনিংসের ৭ম ওভারে ক্রিস ওকসের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে মোটেও ভালো করতে না পারা কিউই এ ওপেনার ফেরার আগে ১৮ বলে দুই চার আর এক ছক্কায় করেন মাত্র ১৯ রান। 

এরপর দলীয় ১০৩ রানে উইলিয়ামসন এবং ১১৮ রানে সাজঘরে ফেরেন আরেক ওপেনার হেনরি নিকোলস। কিউই কাণ্ডারি ব্যক্তিগত ৩০ রানে প্লাঙ্কেটের শিকার হয়ে ফিরলে স্বভাবতই চাপে পড়ে দল। ফেরার আগে নিকোলসের সঙ্গে ৭৪ রানের জুটি গড়েন তিনি। 

পরে সেই চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়ে ফেরেন ফিফটি পাওয়া নিকোলস। এবারো ঘাতক সেই লিয়াম প্লাঙ্কেট। এই ইংলিশ পেসারের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে ৭৭ বলে চার বাউন্ডারিতে ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৫ রান আসে বাঁহাতি এ ওপেনারের উইলো থেকে।

এরপর ইনিংসের ৩২তম ওভারে দলীয় ১৪১ রানে চতুর্থ উইকেট পড়ে কিউইদের। মাত্র ১৫ রান করে আউট হন নির্ভরযোগ্য রস টেইলর। মার্ক উডের বলে লেগ বিফোর হন এই মিডল অর্ডার। এরপর মাত্র তিন রানের জন্য ফিফটি বঞ্চিত হয়ে ফেরেন টম ল্যাথাম (৪৭)। ইংলিশ বোলারদের মধ্যে ওকস ও প্লাঙ্কেট তিনটি করে এবং আর্চার ও উড একটি করে উইকেট লাভ করেন।

এনএস/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি