ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৫ আগস্ট ২০২১, || শ্রাবণ ২০ ১৪২৮

জমানো শেষ সম্বলটুকুও দান করলেন বৃদ্ধ ভিক্ষুক

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১৯:১২, ২১ এপ্রিল ২০২০

স্থানীয় ইউএনওর হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন বৃদ্ধ ভিক্ষুক নজিমুদ্দিন

স্থানীয় ইউএনওর হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন বৃদ্ধ ভিক্ষুক নজিমুদ্দিন

নাম নজিমুদ্দিন। বয়স ৮০ বছর। ভিক্ষা করেই সংসার চালান। নিজের মাথা গোঁজার ঠাই বসতঘর মেরামতের জন্য দুই বছর ধরে ভিক্ষা করে সর্বসাকুল্যে ১০ হাজার টাকা জমালেও আরও টাকার প্রয়োজন। তাই আরও কিছু টাকা জমানোর অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। কিন্তু নিজের ঘর মেরামত না করেই জমানো সর্বস্ব সম্বলটুকুই দান করলেন কর্মহীনদের খাদ্য সহায়তার জন্য খোলা তহবিলে। 

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের বাতিয়াগাঁও এলাকায় ইউএনও রুবেল মাহমুদের হাতে ওই টাকা তুলে দেন ভিক্ষুক নজিমুদ্দিন। তিনি ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও গ্রামের ইয়ার আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে ঘরবন্দী হওয়া কর্মহীন মানুষদের সরকারি ও বেসরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। গত রোববার (১৯ এপ্রিল) ইউএনও রুবেল মাহমুদের নির্দেশে খাদ্য সহায়তার জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দি প্যাসিফিক’ ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্যরা কর্মহীন অসহায় দরিদ্রদের তালিকা প্রণয়নে গান্ধীগাঁও গ্রামে যান। এ সময় ভিক্ষুক নজিমুদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তাকে ইউএনর’র পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী দেয়ার কথা বলে তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখতে চান। কিন্তু ভিক্ষুক নজিমুদ্দিন ওই তালিকায় তার নাম না দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। 

উল্টো ওই ভিক্ষুক বলেন, নিজের বসত ঘর মেরামত করার জন্য দুই বছরে ভিক্ষা করে জমিয়েছেন ১০ হাজার টাকা। এ টাকা স্বেচ্ছায় বর্তমান পরিস্থিতিতে অসহায়দের খাদ্য সহায়তা দেয়ার জন্য ওই তহবিলে দান করবেন তিনি। পরে মঙ্গলবার ‘দি প্যাসিফিক’ ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউএনও’র কাছে নিয়ে আসলে জমানো ১০ হাজার টাকা ইউএনও’র হাতে তুলে দেন ভিক্ষুক নজিমুদ্দিন।

এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বলেন, ‘আমি ভিক্ষা করে খাইয়ে-দাইয়ে দুই বছরে এ টেহা (টাকা) জড়ো করছি। আমার ঘরডা ভাঙ্গে গেছে গ্যা। এহন আর ঘর-দরজা দিলাম না। দশে এহন কষ্ট করতাছে, আমি এ টেহা ইউএনও সাহেবের হাতে তুইল্যা দিলাম। যেন দশে মিলে খাইয়ে দাইয়ে বাঁচুক।’ 

এ প্রসঙ্গে ইউএনও রুবেল মাহমুদ ফোনালাপে বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মজীবি মানুষ কর্মহীনতায় ভুগছেন। এখানে কর্মজীবি মানুষ সংখ্যায় বেশি। এর জন্য সরকারি চাল দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে একটি তহবিল খোলা হয়েছে। আজকে একজন ভিক্ষুক, যিনি ভিক্ষা করে তার পরিবার নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এই করোনা মহামারীকালীন সময়ে তিনি ভিক্ষাবৃত্তি করে তার কষ্টার্জিত জমানো ১০ হাজার টাকা অসহায়দের জন্য আমার হাতে তুলে দিলেন। এ কাজের জন্য নজিমুদ্দিনকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা আমার নেই। এটা মহানুভবতার একটা প্রকৃত উদাহরণ। এ উদাহরণের মাধ্যমে সমাজের যারা বিত্তশালী আছেন, তাদের প্রতি আহ্বান জানাই এ দুর্যোগের সময় অসহায় মানুষের পাশে এস দাঁড়ান।

এনএস/


Ekushey Television Ltd.

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি