কিয়েভ অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় নিহত ৯
প্রকাশিত : ১৩:০৭, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় মঙ্গলবার রাশিয়ার বিমান হামলায় নয়জন নিহত এবং এক ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইউক্রেনের রাজধানীতে এটি ছিল টানা ষষ্ঠ দিনের মতো হামলা।
ইউক্রেন ও রাশিয়া—উভয় স্থানেই হামলা অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে চলছে এমন এক সংঘাত অবসানের উপায় খোঁজার প্রচেষ্টা, যা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মস্কোর পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপীয় মহাদেশের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতে পরিণত হয়েছে।
টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে যে, কিয়েভে আটজন নিহত ও আরও পাঁচজন (যাদের মধ্যে তিনজন শিশু) আহত হয়েছেন এবং রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
গভর্নর তিমুর তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, কিয়েভ অঞ্চলের বোরিসপিলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ও একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; এতে একজন নিহত এবং শিশুসহ আরও নয়জন আহত হয়েছেন।
কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার ফলে লাখ লাখ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। মঙ্গলবার ভোরের দিকে ইউক্রেনের অধিকাংশ এলাকা জুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
ইউক্রেনের জ্বালানি ও লজিস্টিক স্থাপনার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকাগুলোতেও রাশিয়া হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দানিউব নদীর তীরে অবস্থিত অরলিভকায় চালানো এক নতুন হামলায় রোমানিয়ার (ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র) সাথে সীমান্ত পারাপার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে রাশিয়ায়, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র উস্ত-লুগার বন্দর এলাকায় ড্রোন হামলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং রুশ বাহিনী সেখানে ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়েছে।
মস্কো থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার (৫০০ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এবং বেশ কয়েকটি বড় তেল শোধনাগারের কেন্দ্রস্থল রাশিয়ার সামারা অঞ্চলে এক বিমান হামলায় বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় গভর্নর টেলিগ্রামে জানিয়েছেন।
রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় পক্ষই ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। রয়টার্স এই ক্ষয়ক্ষতির খবরগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার জানিয়েছেন যে, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে একটি "বিস্তারিত ও গঠনমূলক" আলোচনা করেছেন। শান্তি প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তাঁদের ইউক্রেন সফরের তারিখ চূড়ান্ত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ কাজ করছে।
একই দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলেন যে, মানবতার স্বার্থেই এই যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন। জবাবে ক্রেমলিনের নেতা জানান, মস্কো "এই পথেই অগ্রসর হচ্ছে"।
এই সংঘাতের জেরে ন্যাটোর কিছু সদস্য রাষ্ট্র—বিশেষ করে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশগুলো—তাদের সামরিক সক্ষমতা জোরদার করতে শুরু করেছে; সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন-ঘটিত ঘটনার ঘনঘটাও এর অন্যতম কারণ।
লাটভিয়ায় ন্যাটোর 'বাল্টিক এয়ার পুলিশিং' মিশনের আওতায় স্বল্প সময়ের জন্য যুদ্ধবিমান সক্রিয় করা হয়েছে এবং ফিনল্যান্ড রাশিয়ার কাছাকাছি আকাশ ও সমুদ্রপথে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনী পৃথকভাবে 'এক্স' (সাবেক টুইটার)-এ এই তথ্য জানিয়েছে। উল্লেখ্য, রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের ওপর দিয়ে ড্রোন উড়তে দেখা গিয়েছিল, যেখানে উস্ত-লুগা বন্দরটি অবস্থিত।
এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গাস সাহকনা—যিনি মঙ্গলবার স্বল্প সময়ের জন্য আকাশপথে হুমকির সতর্কতা জারি করেছিলেন—'এক্স'-এ দেওয়া এক পোস্টে ন্যাটোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠানোর মাধ্যমে ন্যাটোর "দ্রুত এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী" সাড়া দেওয়ার বিষয়টির প্রশংসা করেন।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন










