আত্মঘাতী বোমায় মেসিকে হত্যার পরিকল্পনা, গোপন নথি ফাঁস
প্রকাশিত : ১৪:১৯, ৮ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৪:২৬, ৮ আগস্ট ২০২৬
বিশ্বকাপের মাঠে দর্শকদের উন্মাদনার আড়ালে চলছিল ভয়ঙ্কর হত্যা আর হামলার পরিকল্পনা। লিওনেল মেসিকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলার হুমকি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর হোটেলে হামলা চেষ্টা এবং একাধিক খেলোয়াড়, রেফারি ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য যুক্তরাষ্ট্র পুলিশের একটি ফাঁস হওয়া নথিতে উঠে এসেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গোল ডটকমের দেওয়া তথ্য মতে, ফুটবল বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা উদ্বেগের কেন্দ্রে ছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচের আগে এক ব্যক্তি ডালাস বিমানবন্দরে ফোন করে হুমকি দেন, তিনি আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করবেন। তাদের কাছে হ্যান্ড গ্রেনেড ও এআর-১৫ রাইফেল থাকবে এবং হামলার লক্ষ্য হবে পুলিশ ও দুই দলের খেলোয়াড়রা। কথোপকথনে তিনি মেসিকে হত্যার হুমকিও দেন।
অনুরূপ ঘটনা ঘটে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের আগেও আসে এমন আতঙ্কজনক বার্তা। মেসিকে লক্ষ্য করে চালানো হবে বোমা হামলা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক সন্দেহভাজন পোস্ট করেন যে, তিনি শরীরের চারদিকে বোমা বেঁধে আটলান্টা স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসির ওপর আত্মঘাতী হামলা চালাবেন। ওই ম্যাচের সময় স্টেডিয়ামের ডাস্টবিনগুলোতে তিনটি বোমা রাখা আছে বলে পুলিশের কাছে একটি ফোন আসে, যার পরিপ্রেক্ষিতে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।
এদিকে, নিরাপত্তা হুমকি থেকে রেহাই পাননি রোনালদোও। সন্দেহজনক এক ব্যক্তি রোনালদোর হোটেলের অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন। পরে এক ভক্ত নিরাপত্তা ভেঙে তার হোটেলে ঢুকে একই লিফটে ওঠার চেষ্টা করেন। আটক হওয়ার পর তিনি দাবি করেন, শুধু একটি সেলফি তুলতেই সেখানে গিয়েছিলেন।
খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ম্যাচ রেফারিরাও উগ্র সমর্থকদের তোপের মুখে পড়েন। আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ শেষে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়ার হোয়াটসঅ্যাপে আসে ছয় হাজারের বেশি হুমকিমূলক বার্তা। একই সঙ্গে ভিডিও রেফারি (ভিএআর) উইলি দেলাজোদকেও খুনের হুমকি দেন ক্ষুব্ধ মিশরীয় সমর্থকরা।
নথিতে আরও উঠে এসেছে যে, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের কারণে খেলোয়াড়দের ওপরও নেমে আসে মৃত্যুঝুঁকি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সুযোগ নষ্ট করায় নরওয়ের আলেকজান্ডার সরলথ ও কলম্বিয়ার ঝন জামিনতন কাম্পাজকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
এএইচ










