ঢাকা, বুধবার   ২৪ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপে মহাকাব্যিক রেকর্ড রোনালদোর, বড় জয় পর্তুগালের

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:৫২, ২৪ জুন ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এই গোলের মাধ্যমে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার মহাকাব্যিক বিশ্বরেকর্ড গড়লেন পাঁচবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী এই ফুটবলার। 

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের গোল করতে ব্যর্থ হন রোনালদো। এতে বেশ সমালোচনা শুনতে হয় তাকে। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের ৭ মিনিটেই বল জালে জড়ান রোনালদো। ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ভিন্ন ছয়টি বিশ্বকাপে গোল পেলেন পর্তুগিজ মহাতারকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫টি বিশ্বকাপে গোল করেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি। 

২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে অভিষেক হয় রোনালদোর। সেবার মাত্র একটিই গোল করেছিলেন তিনি। সেই গোলটি আসে ইরানের বিপক্ষে। এরপর ২০১০ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপেও একটি করে গোল করেছেন তিনি।

২০১৮ বিশ্বকাপে নিজের প্রথম এবং একমাত্র হ্যাটট্রিকটি করেন রোনালদো। সেই হ্যাটট্রিকটি এসেছিলো স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে। আর সেবারের বিশ্বকাপে রোনালদো করেছিলেন মোট চারটি গোল। এ দিকে কাতার বিশ্বকাপে রোনালদোর পা থেকে আসে মাত্র একটি গোল।

পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপে একই সঙ্গে কনিষ্ঠতম (২০০৬ সালে ২১ বছর ১৩২ দিন বয়সে) এবং সবচেয়ে বয়স্ক (৪১ বছর ১৩৮ দিন) গোলদাতা এখন তিনিই।

শুরুর ধাক্কা উজবেকিস্তান সামলে ওঠার আগেই ১৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে পর্তুগিজরা। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে পাওয়া একটি ফ্রি-কিক থেকে চমৎকার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয় তারা। ফ্রি-কিক নেওয়ার জন্য রোনালদোকে ডামি হিসেবে দাঁড় করিয়ে সরাসরি জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন পিএসজির ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেস। পুরো ম্যাচেই রক্ষণ ও আক্রমণ—উভয়ভাগেই দুর্দান্ত ছিলেন তিনি। 

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচের ২ মিনিটে গানিভের এক শটে উজবেকিস্তান ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত ভিএআরের কারণে গোলটি বাতিল হয়। আক্রমণের শুরুতে জোয়াও কানসেলোর ওপর ফাউল হওয়ার কারণে রেফারি গোলটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।

সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৩৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। ডি-বক্সে সঠিক সময়ে দারুণ এক রান নিয়ে করা এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১০-এ নিয়ে যান তিনি। এর ফলে কিংবদন্তি ইউসেবিওর (৯) ৬০ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বকালের একক সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন রোনালদো।

দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের চাকা নিজেদের অনুকূলেই রাখে পর্তুগাল। ম্যাচের ৬০ মিনিটে ব্রুনো ফের্নান্দেসের নেওয়া একটি কর্নার থেকে বক্সের ভেতর জটলার মধ্যে আত্মঘাতী গোল করে বসেন উজবেক ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানভ। ফলে পর্তুগাল এগিয়ে যায় ৪-০ ব্যবধানে।

বড় ব্যবধানের লিড পাওয়ার পর কোচ মার্তিনেস তার বেঞ্চের শক্তি ঝালিয়ে নিতে দলে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনেন। জোয়াও ফেলিক্স, ভিতিনিয়া ও রুবেন নেভেসদের তুলে নিয়ে ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও, রাফায়েল লিয়াও ও বের্নার্দো সিলভাদের মাঠে নামানো হয়। 

ম্যাচের শেষদিকেও আক্রমণের গতি সচল রাখে পর্তুগিজরা। ৮৬ মিনিটে ফের্নান্দেসের একটি দূরপাল্লার শট উজবেক গোলরক্ষক নেমাতোভ চমৎকার দক্ষতায় রুখে দিলেও এর দুই মিনিট পরেই আসে ম্যাচের শেষ গোলটি।

৮৮ মিনিটে রোনালদোকে উদ্দেশ্য করে বাড়ানো একটি ক্রস প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে চলে আসে রাফায়েল লিয়াওয়ের পায়ে। চমৎকার এক ওয়ান-টাচ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান এই বদলি ফরোয়ার্ড। ফলে ৫-০ গোলের বড় জয় এবং দাপুটে এক পারফরম্যান্সের স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ে সেলেসাওরা। 

যদিও শেষ দিকে কিছুটা আক্ষেপ থাকে রোনালদোর হ্যাটট্রিক পূরণ না করার।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি