ঢাকা, রবিবার   ১২ জুলাই ২০২৬

১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১৪:৫৯, ১২ জুলাই ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ গোলে সমতার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৩০ মিনিটে দুই গোল দিয়ে ১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে পরাজিত করে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।

জুলিয়ান আলভারেজের দুর্দান্ত গোলে অতিরিক্ত সময়ে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এর আগে নির্ধারিত সময়ের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র ছিল। 

কানসাস সিটির ম্যাচটিতে দক্ষিণ আমেরিকান জায়ান্টদের আকাশী-নীল সমর্থকদের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতি ম্যাচকে বাড়তি আবহ দিয়েছে। ১০ মিনিটে লিওনেল মেসির অ্যাসিস্টে এ্যালেক্সিস ম্যাক এ্যালিস্টারের গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝিতে ড্যান এনডোয়ের গোলে সুইজারল্যান্ড সমতায় ফিরে। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে ব্রিল এমবোলো মাঠ ছাড়লে সুইসরা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। 

একজন কম নিয়েই সুইজারল্যান্ড আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে সামাল দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ফলাফল নির্ধারণের জন্য ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। আর্জেন্টিনার একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে সুইস রক্ষণভাগ ম্যাচে টিকে থাকে। 

অবশেষে ১১২ মিনিটে আলভারেজের কার্লিং শট পুরো স্টেডিয়ামকে উল্লাসে মাতায়। শেষ মুহূর্তে লটারো মার্টিনেজ আরও এক গোল দিয়েছেন। 

এ্যারোহেড স্টেডিয়ামে লিওনেল স্কালোনির দলের এই জয়ে একটি বিষয় নিশ্চিত হয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ চারে থাকা চার দল সেমিফাইনাল খেলছে। 

এনিয়ে বিশ্বকাপে শেষ ১২ ম্যাচে অপরাজিত আছে আর্জেন্টিনা। ১৯৬২ সালে পরপর দুইবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের রেকর্ড স্পর্শ করার সুযোগ এখন আলবে সেলেস্তেদের সামনে। 

দক্ষিণ আমেরিকান দলটি গ্রুপ পর্বে দাপট দেখালেও নক আউট পর্বে একের পর এক লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছে। ছোট দল কেপ ভার্দের বিপক্ষেও তারা সহজে জিততে পারেনি। এরপর মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলতে তারা হারের মুখ থেকে রক্ষা পেয়েছে। 

শনিবারের কোয়ার্টার ফাইনালে আরও একবার সুইসদের পরীক্ষায় পড়তে হলো। বিশ্বকাপে এই প্রথম সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল সুইজারল্যান্ড। 

প্রথম আক্রমণেই আর্জেন্টিনা লিড পায়। ১০ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে উঁচুতে উঠে হেডের সাহায্যে বল জালে জড়ান লিভারপুল মিডফিল্ডার ম্যাক এ্যালিস্টার। এনিয়ে ক্যারিয়ারে ছয় বিশ্বকাপে মেসির এ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়ালো ১০। 

সুইজারল্যান্ড কাউন্টার অ্যাটাকে খুব একটা সুবিধা করতে পারছিল না। তবে এমবোলোর একটি শট লাইনের উপর থেকে কোনোমতে রুখে দেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। 

বিরতির আগে আর্জেন্টিনা আর লক্ষ্যভেদী কোনো শট নিতে পারেনি। বরং বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের তুলনায় বল দখল ও পাসিংয়ে এগিয়ে ছিল সুইজারল্যান্ড।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ম্যাচে তেমন গতি দেখা যায়নি। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মুরাত ইয়াকিনের শিষ্যরা নিজেদের খেলায় ছন্দ খুঁজে পায়। ৬৭তম মিনিটে তারই পুরস্কার পায়।
রিকার্দো রদ্রিগেসের চমৎকার পাস থেকে ড্যান এনডোয়ে দুর্দান্ত ফিনিশে সুইজারল্যান্ডকে সমতায় ফেরান।

পাঁচ মিনিট পর নিজেদেরই বড় ক্ষতি করে বসে সুইজারল্যান্ড। প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড দেখা ব্রিল এমবোলো ইচ্ছাকৃতভাবে ফাউলের অভিনয় করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ভিএআর পর্যালোচনার পর তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

ম্যাক অ্যালিস্টার সহজ সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করেন। মেসির বাঁকানো শটও অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। তবুও সুইজারল্যান্ড শেষ পর্যন্ত সমতা ধরে রেখে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধেও সুইসরা আর্জেন্টিনার একের পর এক আক্রমণ সফলভাবে প্রতিহত করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জুলিয়ন আলভারেজের অসাধারণ নৈপুণ্যে সুইজারল্যান্ডের সাহসী প্রতিরোধ ভেঙে যায়। 

কয়েক মিনিট পর লটারো মার্টিনেজের গোলের পর সুইসদের আর কিছুই করার ছিল না।

এখন আর্জেন্টিনার সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। শনিবার দিনের প্রথম কোয়ার্টার-ফাইনালে থমাস টাচেলের ইংল্যান্ড ২-১ গোলে নরওয়েকে হারিয়েছে। আর এতেই বুধবার আটলান্টায় সেমিফাইনালে দুই পরাশক্তির লড়াই এখন দেখার অপেক্ষায় পুরো ফুটবল বিশ্ব।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি