৬৬১.৫ কোটি টাকার ‘বাংলাবিজ’ প্রকল্প, ব্যবসা নিবন্ধন মাত্র ৩ দিনে
প্রকাশিত : ১৪:৪৯, ২৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৬:১১, ২৮ জুলাই ২০২৬
ব্যবসায়িক নিবন্ধন ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে বিদ্যমান সব ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) পোর্টালকে এক ছাতার নিচে এনে ‘বাংলাবিজ’ নামের একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে ৬৬১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, প্রকল্পটি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো- বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সেবাসমূহকে একত্রিত করে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।
উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক ব্যবসা নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণমূলক অন্যান্য অনুমোদন পেতে আর দুই থেকে তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে না। বরং মাত্র তিন কার্যদিবসের মধ্যেই এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের আওতায় বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মে একটি ‘সিঙ্গেল সাইন-অন’ (এসএসও) ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা একটিমাত্র অ্যাকাউন্ট দিয়েই একাধিক সংস্থার সেবা নিতে পারবেন।
এতে আরও থাকছে ‘নো ইউর অ্যাপ্রুভালস’ নামের একটি ড্যাশবোর্ড, যার মাধ্যমে লাইসেন্স ও পারমিটের আবেদন কোন পর্যায়ে আছে, তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘ইউনিক বিজনেস আইডি’ (ইউবিআইডি) বা অনন্য ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর চালু করা।
আজীবন মেয়াদি এই ইউনিক আইডি সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সহজ করবে, বারবার একই কাগজপত্র জমা দেওয়ার ঝামেলা দূর করবে এবং সেবার মান উন্নত করবে।
প্রকল্পটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি প্রাথমিক ‘বিজনেস স্টার্টার প্যাক’ নিয়ে শুরু হয়েছে। আর আগামী ৯ থেকে ১২ মাসের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবাসমূহকে এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সব ধরনের সেবাকে শতভাগ ডিজিটালে রূপান্তর করা।
এই প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং এর আইনগত দিক নিয়ে কাজ করছে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ অ্যাক্ট’।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, বাংলাবিজ প্রকল্প চালু হলে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সুবিধা ব্যবস্থা নতুন রূপ পাবে। ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় সহজ পরিবেশ তৈরি ও দেশি-বিদেশি ব্যাপক বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।
এএইচ
আরও পড়ুন










