ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১২:১৩:১৮

রাজশাহীর জনপ্রিয় খাবার কলাই রুটি

রাজশাহীর জনপ্রিয় খাবার কলাই রুটি

রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ তথা উত্তর অঞ্চলের জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে একটি হলো কলাই রুটি। রাজশাহীতে যাবেন আর কলাই রুটি খাবনে না তা হতে পারে না। দেশের কিংবা বিদেশের বিখ্যাত ব্যক্তিরা রাজশাহী গিয়ে কলাই রুটির স্বাদ নেন। কলাই রুটি তৈরি করে এ এলাকায় অনেকে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এ কলাই রুটি তৈরি করে চলে সংসারের যাবতীয় খরচ। এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার হলো কলাই রুটি। সকালের নাশতা হিসেবে এটি বেশ জনপ্রিয়। কারণ এটি তৈরি সহজ, এর উপাদানও হাতের কাছেই। বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে বাঙালির স্বকীয়তা এসব খাবারেই নিহিত। বিশ্বায়নের বর্তমান যুগে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফুড চেইন ও ফাস্টফুডের সঙ্গে বাঙালির দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার এখনো সগর্বে টিকে রয়েছে। এগুলোর মধ্যে এই কলাই রুটি। বিশেষ উৎসব বা পার্বণের অংশ হিসেবে নয়, বরং এই কলাই রুটি প্রতিদিনের খাবারে ভাত-ডালের মতোই খাওয়া হয়ে থাকে। লাল টুকটুকে শুকনা মরিচভর্তার সঙ্গে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু এই রুটি খুব সহজেই ঘরে তৈরি করা হয়। কয়েকদিন আগেই সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসেছিলেন রাজশাহীতে। তিনি এসে পদ্মার পাড়ে সকালের নাস্তা হিসেবে কলাই রুটি খান। শুধু এখানেই শেষ নয় সেই কালাই রুটি খাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও পোস্ট করেন। এ ছবি পরে ভাইরাল হয়ে যায়। তিনি কলাই রুটি খেয়ে বলেছিলেন, রাজশাহী আসলাম আর কলাই রুটি খাব না তা হতে পারে না। আবার রাজশাহী এলে কলাই রুটি খাব। কলাই রুটি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন মো. আবদুল হান্নান। তিনি জানান, কলাই রুটি বিক্রি করে ওই ব্যক্তি জীবিকা নির্বাহ করেন এবং প্রায় ১০ জনের একটি পরিবারের ভরণ পোষণও করছেন। এই রুটি তৈরি করে তিনি তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনাও করাচ্ছেন। তার দুই ছেলে চাকরি করছে। ৩৬ বছর ধরে তিনি এ পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। যখন এই রুটি বিক্রি হতো দুই টাকায় আর এখন এ রুটি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। তিনি তার মায়ের কাছ থেকে এ রুটি তৈরি করে শিখেছেন।   কলায়/কলাই রুটি তৈরির রেসিপি বা উপাদান- ১। মাষকলাই/কলাই ২। আতপ চাল/চিকন ধানের চাল প্রথমে জাতাতে মাষকলাই ও আতপ চালকে কে পিষে আটা বানিয়ে নিতে হবে। তবে এই কাজ মেশিনেও করা যায়। তবে ভালো কলাই এর রুটি খেতে চাইলে মেশিনে ভাঙা নয়, জাতাতে পিষা কলাই আর আতপ চালের আটা ভাল। যদি মেশিনে ভাঙতে হয় তবে, আটাটা একটু মোটা করে ভাঙতে হবে। বেশি চিকন হলে রুটি খেতে মজা লাগবে না। তৈরি পদ্ধতি: প্রয়োজনীয় পরিমাণ আটার সঙ্গে লবণ-পানি মিশিয়ে খামির বানাতে হবে। তৈরি খামির থেকে টেনিস বলে সমপরিমাণ নিয়ে প্রথমে একটা গোলা বানাতে হবে। পরে গোলাটি হাতে চ্যাপ্টা করে রুটির মতো বানাতে হবে। রুটি বড় করার সুবিধার্থে হাত মাঝে মাঝে পানিতে ভিজিয়ে নিতে হবে। এতে সুবিধা হয় যে আটা যেন হাতের তালুতে আটকে না যায়। চাকতির মত আটাকে আস্তে আস্তে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে এক তালু থেকে অন্য তালুতে বারবার নিয়ে আটাকে যতটুকু সম্ভব পাতলা করে নিতে হবে। দুই হাতের তালুতে নিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চ্যাপটা করে রুটি বানাতে হবে। তারপর সেটা পরোটার মতো ভেজে নিতে হবে।   খাওয়ার অনুষঙ্গ: এই বিশেষ রুটি খেতে হবে বিশেষ কিছু ভর্তা সহযোগে। যেমন পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ, ধনেপাতা, আগুনে পোড়ানো বেগুন-ভর্তা দিয়েই খেতে বেশি ভালো লাগে।   এসএইচ/টিকে
রেসিপি : ইলিশ মাছের ভর্তা

ইলিশ মাছ পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। ইলিশ এমন একটি মাছ, এটি যেভাবেই রান্না করা হোক না কেন খেতে ভীষণ মজা লাগে। তবে ভর্তাপ্রেমীদের জন্য সুখবর হচ্ছে ইলিশ মাছ দিয়ে তৈরি করা যায় সুস্বাদু ভর্তা। গরম ভাত কিংবা পোলাওয়ের সঙ্গে খেতে পারবেন এই ভর্তা। উপকরণ : ইলিশ মাছের টুকরো ৩-৪টি, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, ধনেপাতা কুচি ১ টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ কুচি ১ চা চামচ, শুকনো মরিচ ১টি, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী এবং সরিষা তেল ভাজার জন্য। প্রণালি : মাছের টুকরো ভালো করে ধুয়ে এতে মসলা ও লবণ মাখিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। কড়াইয়ে তেল গরম করে মাছগুলো ভালো করে ভেজে নিন। পেঁয়াজ, ধনেপাতা ও কাঁচামরিচ কুচি মচমচে করে ভেজে নিন। মাছ ঠান্ডা হলে কাঁটা বেছে নিন। এখন মাছের সঙ্গে ভাজা উপকরণগুলো ভালো করে হাত দিয়ে মাখিয়ে তৈরি করুন ইলিশের লোভনীয় ভর্তা।   এসএ/

মিষ্টি দই বানানোর সহজ পদ্ধতি

বিভিন্ন উৎসব ও অনুষ্ঠানে বাঙালি বাড়িতে মিষ্টি দই এক অপরিহার্য অঙ্গ। ঘন দুধের সাথে চিনি গলিয়ে সেটাকে দই-র মত গেঁজিয়ে বা বসিয়ে তৈরি করা হয় মিষ্টি দই। এই মিষ্টি দেওয়া দইটি বানানো খুবই সহজ। সরযুক্ত ঘন দুধকে আরও ঘন করে প্রায় শুরু থেকে অর্ধেকে পরিণত করতে হবে। তারপর তাতে মেশাতে হবে গলানো চিনি। আমাদের এ আয়োজনে থাকবে কিভাবে আপনি মিষ্টি দই তৈরি করবেন। উপাদানসমূহ : দুধ - ৭৫০ মিলি চিনি -১/২ টেবিল চামচ জল - ১/৪ কাপ টাটকা দই - ১/২ কাপ বাদাম-পরিবেশনের সময় দিতে পারেন কিভাবে তৈরি করবেন: ১.একটা গরম প্যানে দুধ ঢালুন। ২.এরপর এটা ফুটিয়ে অর্ধেক করে দিন। ৩.অন্যদিকে অন্য একটা প্যানে চিনিটা দিন। ৪.হালকা আঁচে নাড়তে থাকুন। ৫.এই নাড়াচাড়া করার মধ্যে মাঝে মাঝে গ্যাসটা বন্ধ করুন, আবার চালান। যাতে চিনিটা নিচে না ধরে যায়। ৬.বারবার এরকম করতে করতে এক সময় দেখবেন চিনিটা পুরো গলে গেছে এবং একটা হালকা বাদামি রঙ ধরবে। ৭.এবার গ্যাসটা পুরো বন্ধ করে জল দিন। ৮.ভাল করে মিশিয়ে একপাশে রেখে দিন। ৯.দুধটা অর্ধেক হয়ে গেলে,এবার এতে এই চিনির শিরাপটা ঢেলে দিন। ১০.ভাল করে মিশিয়ে গ্যাস থেকে নামিয়ে নিন। ১১.ঠাণ্ডা হতে দিন। মোটামুটি উষ্ণ গরম অবস্থায় এলে দেখুন। ১২.এবার টাটকা টক দইটা এর সাথে মেশান। ১৩.যে মাটির পাত্রে তা তৈরি করবেন তা সে পাত্রে এবার ঢেলে নিন।   ১৪.এবার এই মাটির পাত্রটিকে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে মুড়িয়ে দিন। ১৫.১০-১২ ঘন্টার জন্য ফ্রিজে রাখুন। ১৬.পরিবেশনের আগে ফয়েল সরিয়ে ওপরে কুচনো বাদাম দিয়ে সাজিয়ে দিন। দিকনির্দেশনা: টাটকা দই ব্যবহার করবেন। পুরনো খুব বেশি টক দই নয়। দইটা খুব ভাল করে মেশাবেন। দেখবেন যেন ভেতরে দলা না পাকিয়ে যায়। সূত্র:বোল্ড স্কাই এম/ডব্লিউএন  

চিকেন বল তৈরির রেসিপি

বিকেলের নাস্তা কিংবা টিফিনে চিকেন বলের কদরই আলাদা। এটি যেমন সুস্বাদু তেমন তৈরি করতে ঝামেলাও কম। বাসায় মেহমান আসলে রেস্টেুরেন্ট থেকে খাবার না কিনে ঘরে তৈরি করতে পারেন সুস্বাদু মজাদার না এই রেসিপি।  আসুন জেনে নিই চিকেন বল তৈরির রেসিপির উপাদান। উপকরণ : মুরগির কিমা ৫০০ গ্রাম, ডিম ১টি, ময়দা ১ টেবিল চামচ, বিস্কুটের গুঁড়া আধা কাপ, পুদিনা পাতা, ধনেপাতা ও কাঁচামরিচ কুচি ২ টেবিল চামচ, আদা ও রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, গরম মসলা গুঁড়া ১ চা চামচ, লাল মরিচের গুঁড়া ১ চা চামচ। চিকেন বারবিকিউ তৈরি করবেন যেভাবে প্রুস্তুত প্রণালি : প্রথমে মুরগির কিমায় একে একে সব বাটা ও গুঁড়া মসলা, স্বাদ অনুযায়ী লবণ, ময়দা, ডিম এবং কুচি করা ধনেপাতা, পুদিনা পাতা, কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজ দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে গোল গোল করে বিস্কুটের গুঁড়ায় গড়িয়ে ডুবন্ত গরম তেলে ভেজে টিস্যুতে তুলে সাজিয়ে পরিবেশন করুন গরম গরম চিকেন বল। কেআই/ডব্লিউএন

© ২০১৭ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি