ঢাকা, মঙ্গলবার   ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বাভাবিক লেনদেনে ফিরছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ২০:২৮, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Ekushey Television Ltd.

পাঁচটি সংকটগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ব্যক্তিগত হিসাবধারীদের জন্য স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করেছে। আমানতের মূল টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে টাকা পরিশোধ করা হবে।

মঙ্গলবার থেকে ব্যাংকটির শাখা ও উপ-শাখাগুলোতে আমানত উত্তোলনের আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি শেষ করে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধ করা হবে।

ব্যাংকটির বিশেষ এক সার্কুলার অনুযায়ী, ব্যক্তিগত হিসাবধারীরা একবারে তাদের আমানতের সম্পূর্ণ মূল টাকা উত্তোলন বা নগদায়ন করতে পারবেন।

পাঁচটি আর্থিকভাবে দুর্বল ইসলামী ব্যাংক একীভূত হওয়ার পর নিজেদের সঞ্চিত অর্থ নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা অনেক আমানতকারীর মধ্যে ব্যাংকটির কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে।

ব্যাংকারদের মতে, নতুন এই ব্যাংকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির সিনিয়র অফিসার মাইনুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকিং কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়া স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী গ্রাহকদের অর্থ দেওয়া নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বিঘ্নে অর্থ পরিশোধ, স্বচ্ছতা এবং আমানতকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ব্যাংকের প্রতি আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকটির আরেক কর্মকর্তা বলেন, লেনদেন পুনরায় শুরু হওয়ার পর কিছু আমানতকারী তাদের সঞ্চয় দ্রুত তুলে নিতে পারেন। তাই এ সময়ে ব্যাংকটিকে তারল্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, গ্রাহকদের যৌক্তিক উত্তোলনের চাহিদা পূরণ এবং নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত তারল্য বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। এ পরিবর্তনের সময়ে সঠিক নগদ অর্থ পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এদিকে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের মুনাফার একটি অংশ কমিয়ে দেওয়ার যে প্রস্তাব ছিল, তা বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে মেয়াদি আমানতের বিপরীতে ঘোষিত পুরো মুনাফাই পাবেন আমানতকারীরা।

যেসব গ্রাহক তাদের হিসাব সচল রাখবেন, তারা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পূর্বনির্ধারিত হারে মুনাফা পেতে থাকবেন।

যেসব গ্রাহকের জরুরি অর্থের প্রয়োজন এবং মেয়াদি আমানত ভেঙে ফেলতে চান, তারা আমানতের সম্পূর্ণ মূল টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে উত্তোলিত ওই অর্থের বিপরীতে কোনো মুনাফা পাবেন না।

দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, বিভিন্ন অনিয়ম ও নানা জালিয়াতির কারণে আমানত ফেরত দিতে সমস্যায় পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।

একীভূত প্রক্রিয়ায় আসার পর থেকে চলতি বছরের ২ জুন পর্যন্ত পাঁচ ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ বা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ২ হাজার ১২৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে আমানতকারীরা তাদের আমানতের বিপরীতে ঋণ পেয়েছেন ৩৫৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে এক্সিম ব্যাংক। ব্যাংকটি একীভূত প্রক্রিয়ায় থাকা অবস্থায় ২ জুন পর্যন্ত ১ হাজার ১৪১ কোটি ২৯ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে দেড় শ’ কোটি টাকা আমানতকারীরা তাদের জমা রাখা টাকার বিপরীতে ঋণ পেয়েছেন।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৪৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এই ব্যাংকের আমানতকারীরা আমানতের বিপরীতে ঋণ পেয়েছে ৫৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এছাড়া, ১২৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। গ্লোবাল ইসলামী ৯২ কোটি ও ইউনিয়ন ব্যাংক গেল ২ জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ২৩ কোটি টাকা।

এএইচ


Ekushey Television Ltd.

© ২০২৬ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি