ঢাকা, রবিবার   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, || অগ্রাহায়ণ ২৫ ১৪২৬

Ekushey Television Ltd.

পূজারাকে ফিরিয়ে এবাদতের স্যালুট

নাজমুশ শাহাদাৎ

প্রকাশিত : ২০:৫৮ ২২ নভেম্বর ২০১৯

পূজারাকে স্যালূট দিয়েই বিদায় জানাচ্ছেন এবাদত

পূজারাকে স্যালূট দিয়েই বিদায় জানাচ্ছেন এবাদত

ইডেনে গোলাপি বলের ঐতিহাসিক টেস্ট দুর্দান্ত এক পরীক্ষার মুখে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় পেসারদের তোপের মুখে দাঁড়াতে পারেনি কেউই, ফলে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে মাত্র ১০৬ রানেই। জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথমে আল-আমিন এবং এবাদতের জোড়া আঘাতে তিন টপ অর্ডারকে হারিয়েছে স্বাগতিক দল। 

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪৫ ওভারে ভারতের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৭০ রান। অধিনায়ক বিরাট কোহলি ৫৯ রানে এবং আজিঙ্কা রাহানে ১৯ রানে ক্রিজে আছেন।

কোহলি-পুজারার অনবদ্য জুটিতে সফরকারী বোলাররা যখন দিশেহারা, জুটি ভাঙতে টাইগাররা যখন বদ্ধপরিকর, উইকেটের খোঁজে হন্যে গোটা দল, ঠিক তেমনই এক মুহূর্তে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি এনে দেন রোহিতের উইকেট নেয়া এবাদত হোসেন। সেকেন্ড স্লিপে সাদমানের ক্যাচ হয়ে সাজঘরে ফেরেন চেতেশ্বর পূজারা। সঙ্গে সঙ্গে তাকে স্যালুট ঠুকে বিদায় জানান এবাদত। রোহিতের ক্ষেত্রেও এমনটিই করেন এই পেসার।

তার আগেই অবশ্য নিজের ৭৪ টেস্ট ক্যারিয়ারে ২৪তম ফিফটি তুলে নেন এই ব্যাটসম্যান। ১০৫ বল মোকাবেলা করে আটটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পূজারা যখন ফেরেন তখন তার নামের পাশে ৫৫ রান। 

তার আগে দলীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির সঙ্গে গড়েন অনবদ্য ৯৪ রানের জুটি। যে জুটি গড়ার পথে টেস্ট ক্যাপ্টেন হিসেবে ৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন বিরাট। পরে সেই এবাদতকেই বাউন্ডারি মেরে কোহলি তুলে নেন নিজের ২৩তম ফিফটি।  

এর আগে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশি পেসারদের উপর চাড়াও হয় দুই ভারতীয় ওপেনার মায়াঙ্ক আগারওয়াল ও রোহিত শর্মা। যাতে প্রথম চার ওভারেই এ দুজনে তুলে ফেলেন ২৫ রান। তবে পঞ্চম ওভারে নিজের তৃতীয় ওভার করতে এসে চতুর্থ বলেই ভারত শিবিরে আঘাত হানেন আল আমিন হোসেন। 

অফ স্ট্যাম্পের বেশ বাইরে দিয়ে যাওয়া আল আমিনের ওই বলটিতে ব্যাট চালান মায়াঙ্ক। যার খেসারত দিতে হয় আগের ম্যাচের ডাবল সেঞ্চুরিয়ানকে। বলটি ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় গালিতে ওঁত পেতে থাকা মিরাজের হাতে। যা লুফে নিয়ে কোনরকম ভুলচুক করেননি সাবস্টিটিউট এই ফিল্ডার। ২১ বলে তিন চারে ১৪ রানেই ফিরতে হয় মায়াঙ্ককে।  

এরপরই চা বিরতির ঠিক আগ মুহুর্তেই আরও একবার উদযাপনে মাততে পারতো টিম বাংলাদেশ। কিন্তু তা আর হয়নি প্রথম উইকেট শিকারি আল আমিনের ভুলে। রোহিতের তুলে দেয়া ক্যাচ হাতে জমিয়ে রাখতে পারেননি এই ফিল্ডার। 

১২তম ওভারের প্রথম বলের ঘটনা সেটা। বল হাতে আক্রমণে আসেন আবু জায়েদ। গুড লেন্থের বলটি রোহিত তুলে মারেন ফাইন লেগে। সেখানে মজুদও ছিলেন আল আমিন। তবে শিশিরের কারণেই কিনা, ক্যাচটি হাত ফসকে পড়ে যায় আল আমিনের। যাতে জীবন পেয়ে যান ১২ রানে ব্যাট করতে থাকা ওপেনার রোহিত শর্মা। 
 
তবে বিরতির পর ফিরে রোহিতকে আর সুযোগ দেননি এবাদত হোসেন। মারকুটে ওপেনারকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন এই পেসার। যাতে রিভিউ নিয়ে রক্ষা মেলেনি ভারতের। ৪৩ রানেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। আর রোহিত ফেরেন দুই চার ও এক ছয়ে ২১ রান করে।  

এর আগে ভারতীয় পেসারদের তোপের মুখে দলীয় ১৫ রানেই কায়েসকে হারায় বাংলাদেশ। এরপর একে একে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক মুমিনুল হক, মোহাম্মদ মিঠুন, মুশফিকুর রহিম, সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল্লাহ। যাতে দলীয় ৬০ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। আউট হওয়া ছয় ব্যাটসম্যানের স্কোর যথাক্রমে ৪,০,০,০,২৯ ও ৬।  

এহেন অবস্থায় টাইগার শিবিরে আঘাত হানে আরেকটি দুঃসংবাদ। মাথায় আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন ভাল খেলতে থাকা লিটন দাস। পরবর্তীতে রিটায়ার্ড হার্ট লিটনের বদলী হিসেবে ব্যাট হাতে নামেন মেহেদী মিরাজ। তবে রুখতে পারেননি দলের বিপর্যয়। 

বদলী হিসেবে নেমে তেমন সুবিধা করতে পারেননি মিরাজ। দুই চারে মাত্র ৮ রানেই ইশান্ত শর্মার চতুর্থ শিকার হয়ে পুজারার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১৩ বল খেলেই। যাতে ৯৮ রানেই অষ্টম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

পরে ইশান্তের পঞ্চম শিকার হয়ে নাঈম হাসান ফেরেন ১৯ রান করে। বোল্ড হওয়ার আগে চার বাউন্ডারিতে ওই রান করেন এই তরুণ। আর আবু জায়েদকে (০) ফিরিয়ে বাংলাদেশ দলের লেজটা গুড়িয়ে দেন মোহাম্মদ শামি। এ নিয়ে শামি তার ঝুলিতে দুটি উইকেট পুরলেও বাকি তিনটি উইকেট লাভ করেন আরেক পেসার উমেশ যাদব। 

এর আগে ঐতিহাসিক এই টেস্টে ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মুমিনুল হক। কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায় খেলা শুরু হয়।

এনএস/

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি