ঢাকা, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১:৩১:২০

বাবাকে বাঁচাতে চান ঢাবি শিক্ষার্থী রেকছনা

বাবাকে বাঁচাতে চান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী রেকছনা খাতুন। তার বাবা শুকুর আলী ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত। ডাক্তার জানিয়েছেন জরুরি ভিত্তিতে তার অপারেশন করা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য পরিবারের শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে দিয়েছে তার পরিবার। অপারেশন করানোর জন্য প্রয়োজন ৭ লাখ টাকা। দরিদ্র কৃষক পরিবারের পক্ষে এই বিশাল ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আকুতি জানিয়েছেন তার মেয়ে রেকছনা। ৫০ বছর বয়সী শুকুর আলী পেশায় একজন ভূমিহীন কৃষক। গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা সদরে আলুকদিয়া গ্রামে। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস এ্যান্ড হসপিটালে পরীক্ষা করার পর তার পিতার ব্রেন টিউমার ধরা পরে। পরে চিকিৎসকরা জানান, টিউমারটি বড় হয়ে গিয়েছে। দ্রুত অপারেশন প্রয়োজন। কিন্তু টাকার অভাবে বর্তমানে অপারেশন করাতে পারছেন না। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে রেকছনা খাতুন হচ্ছেন সবার বড়। রেকছনা খাতুন একুশে টিভি অনলাইনকে বলেন, আমি কৃষক পরিবারের মেয়ে। আমার বাবা দিন দিন মৃত্যুর দিকে চলে যাচ্ছে। এই রোগের চিকিৎসা আছে। কিন্তু বাবার বড় মেয়ে হয়েও টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। তাই আমি নিরুপায় হয়ে আমার বাবার চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি।   সাহায্য পাঠানোর ঠিকান রেকছনা খাতুন বিকাশ: ০১৯৩১-২৪৪৬২৪ রকেট: ০১৯৬১-৭২৪৬৩০০ ডাচ্-বাংলা ব্যাংক: ১৬৪.১০৫.২৫০২৪ (মিরপুর-১০) যোগাযোগ ০১৫১৫-৬৯৫৮৬, ০১৫২১-৪৯৮৪৬১   এম/টিকে

২৫০ জেলেকে লাইফ জ্যাকেট দিল কোস্টগার্ড

বাগেরহাটের ২৫০ জন প্রান্তিক  জেলেদের মাঝে লাইফ জ্যাকেট দিয়েছে কোস্টগার্ড। সোমবার বেলা ১১টার দিকে কোস্টগার্ড মোড়েলগঞ্জ স্টেশন অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলেদের মাঝে জ্যাকেটগুলো বিতরণ করা হয়। নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন এম মিনারুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত জেলেদের হাতে জ্যাকেটগুলো তুলে দেন। জেলেদের নৌ নিরাপত্তার জন্য কোস্টগার্ডের পক্ষ হতে মংলা, শরণখোলা, বাগেরহাট, কচুয়া ও মোরেলগঞ্জের ৫ নারী জেলেসহ ২৫০ জন জেলেকে এই জ্যাকেট দেওয়া হয়। কোস্টগার্ড মোরেলগঞ্জ কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. ফরিদ আহম্মেদের সভাপতিত্বে কোস্টগার্ড মংলা স্টেশন কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোস্তফা কামাল, বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিয়া হায়দার চৌধুরী, মংলা কোস্টগার্ডের অপারেশন অফিসার লে. হায়াত ইবনে সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।   আর

চুয়াডাঙ্গায় ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা

চুয়াডাঙ্গায় শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে এ বছরের মধ্যে এটাই সর্বনিম্ন। শীতের তীব্রতা বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ। শিশু ও বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন শীত জনিত নানা রোগে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকেও বেরুতে চাইছেন না। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছামাদুল হক গণমাধ্যমকে জানান, চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কয়েকদিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে এ জেলায়। আবহাওয়া অফিসের সূত্রগুলো জানায়, ঘণ্টায় প্রায় ১২ কিলোমিটার গতি বেগে বাতাস বইছে। আকাশে ঘন কুয়াশা। দিনে সূর্যের দেখা পাওয়া যাচ্ছে অল্প সময়ের জন্য।   এম/টিকে

ঘুরে আসুন ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ

মসজিদ মুসলিম সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মুসলমানদের বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যাবলীর প্রাণকেন্দ্র। এখানে প্রার্থণা করা ছাড়াও শিক্ষা প্রদান, তথ্য বিতরণ এবং বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়। বাংলাদেশে অসংখ্য ঐতিহ্যবাহি মসজিদ রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ। একটা সময় ছিলো যখন বাগেরহাট পিসি কলেজে যাতায়াত করতাম। তাছাড়া আমি খুলনার ছেলে, তাই বাগেরহাট যাওয়া হয়েছে বহুবার। বিশেষ করে ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদে যাওয়া হয়েছে অনেকবার। নামাজও আদায় করেছি। তবে যতবারই সেখানে যাওয়া হয়েছে ডুবে গেছি ইতিহাসের মাঝে। কারণ বাংলাদেশে নির্মিত প্রাচীন আমলের মসজিদগুলোর মধ্যে সর্ববৃহত মসজিদ এটি। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত প্রাচীন এ মসজিদটিকে ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্টেইজ’ হিসাবে মর্যাদা দেয়। মসজিদটি বাগেরহাট শহরকে বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী শহরের মধ্যে স্থান করে দিয়েছে। অবস্থান দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা বাগেরহাট শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোকিটার দুরে খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাসে ষাটগুম্বজ বাসস্টপেজ লাগোয়া সুন্দরঘোনা গ্রামে অবস্থিত ষাটগম্বুজ মসজিদটি। মসজিদের নাম অনুসারেই বাসস্টপেজের নামকরণটি করা হয়েছে। ইতিহাস মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মাণ করা হয়েছিলো সে সম্বন্ধে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবে মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী দেখলে নিশ্চিত ভাবে ধারণা করা হয় এটি খান-ই-জাহানের নির্মিত। ধারণা করা হয় পঞ্চদশ শতাব্দীতে ‘খান-উল-আযম উলুঘ খান-ই-জাহান’ (খানজাহান আলী (রঃ) নামে বেশি পরিচিত) মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদের পূর্বদিকে (১২৫মি. দুরে) ‘কোদালধোয়া’ দিঘি, পশ্চিমে বিশাল আকারের ‘ঘোড়াদিঘি’ উত্তরে (৩’শ মিটার দুরে) খানজাহানের ‘বসত ভিটা বা ঢিবি’ এবং দক্ষিনে খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়ক। খানজাহানের দরগাহ থেকে মসজিদটির দুরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটার। আকৃতির বিচারে বাংলাদেশের ভূখন্ডে অবস্থিত মধ্যযুগীয় মসজিদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ষাটগম্বুজ মসজিদ। এটি হযরত খান জাহান (রহ:) এর সর্ববৃহৎ কীর্তি/নিদর্শন। মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে বাইরের দিকে প্রায় ১৬০ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ১৪৩ ফুট লম্বা এবং পূর্ব-পশ্চিমে বাইরের দিকে প্রায় ১০৮ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ৯০ ফুট চওড়া। দেয়ালগুলো প্রায় ৮·৫ ফুট পুরু। মসজিদের ভেতরে মেঝে হতে ছাদের উচ্চতা প্রায় ২১ ফুট। মসজিদটি ষাটগম্বুজ নামে পরিচিত হলেও এতে মোট গুম্বজ আসে ৮১টি। মসজিদের চার কোনের মিনার বা বুরুজের উপরের ৪টি গুম্বজ বাদ দিলে গম্বুজ সংখ্যা ৭৭টি। আর ৭৭টি গম্বুজের মধ্যে ৭০ টির উপরিভাগ গোলাকার এবং মধ্যের একটি সারিতে ৭টি গুম্বজ চারকোণবিশিষ্ট। দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজটির ভিতর দিয়ে উপরে (ছাদে) উঠার সিঁড়ি আছে। এর নাম ‘রওশনকোঠা’। উত্তর-পূর্ব কোনের বুরুজটির নাম ‘আন্ধারকোঠা। এটিতেও উপরে ওঠার সিঁড়ি ছিলো যা বর্তমানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ষাটগম্বুজ মসজিদের পূর্ব-পশ্চিমে লম্বালম্বি ভাগে ৭টি সারিতে বিভক্ত (৭x১১) মোট ৭৭টি গুম্বজ আছে। গুম্বজগুলোর ছাদ-পরিকল্পনার এই ভার বহনের জন্য নিচের অংশে সারিবদ্ধভাবে (৬x১০) ৬০টি পাথরের থাম বা পিলার আছে। ঐতিহাসিকরা মনে করেন, এই ষাটটি থামের অস্তিত্ব থেকেই মসজিদটির নাম হয় ‘ষাটখাম্বাজ’ সেখান থেকে কালের বিতর্তনে বিকৃত কথ্যরূপ ‘ষাটগম্বুজ’। আবার কোন কোন ঐতিহাসিক মনে করেন, সাতটি সারিবদ্ধ গম্বুজ সারি আছে বলে এ মসজিদের ‘সাত গম্বুজ’ এবং তা থেকে ‘ষাটগম্বুজ’ নাম হয়েছে। নাম করণ সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের আরেকটি মত হচ্ছে, মসজিদটির ছাদ সমান নয় গুম্বুজ আকৃতির। অর্থাৎ ছাদে গুম্বজ। যার থেকে মসজিদটি ‘ছাদ গুম্বুজ’ নামে পরিচিতি লাভ করেছিল। সেখান থেকে কথ্যরুপ ‘ষাটগুম্বুজ’ নাম হয়েছে।                                                        পূর্বের স্তম্ভ বা পিলার জনশ্রুতি আছে যে, হযরত খানজাহান (রঃ) ষাটগুম্বুজ মসজিদ নির্মাণের জন্য সমুদয় পাথর সুদূর চট্রগ্রাম, মতামত্মরে ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে তাঁর অলৌকিক ক্ষমতা বলে জলপথে ভাসিয়ে এনেছিলেন। ইমারতটির গঠন বৈচিত্রে তুঘলক স্থাপত্যের বিশেষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। মসজিদের ভিতরে পশ্চিম দেয়ালে ১০টি মিহরাব আছে। মাঝের মিহরাবটি আকারে বড় এবং তুলনা মূলক অধিক কারুকার্যমন্ডিত। এ মিহরাবের দক্ষিণে ৫টি ও উত্তরে ৪টি মিহরাব আছে। শুধু মাঝের মিহরাবের ঠিক পরের জায়গাটিতে উত্তর পাশে একটি ছোট দরজা। ধারণা করা হয়, খান-ই-জাহান এই মসজিদটিকে নামাযের কাজ ছাড়াও দরবার ঘর হিসেবে ব্যবহার করতেন, আর এই দরজাটি ছিলো দরবার ঘরের প্রবেশ পথ। আবার কেউ কেউ বলেন, মসজিদটি সেসময় মাদ্রাসা হিসেবেও ব্যবহৃত হত। মসজিদটির পূর্ব দেয়ালে ১১টি বিরাট আকারের খিলানযুক্ত দরজা আছে। মাঝের দরজাটি অন্যগুলোর চেয়ে বড়। উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে আছে ৭টি করে দরজা। পশ্চিম দিকের প্রধান মেহরাবের পাশে ১টি সহ ষাটগুম্বুজ মসজিদের মোট ২৬টি দরজা আছে। মসজিদের ৪ কোণে ৪টি মিনার বা বুরুজ আছে। এগুলোর নকশা গোলাকার এবং এরা উপরের দিকে সরু হয়ে গেছে। এদের কার্ণিশের কাছে বলয়াকার ব্যান্ড ও চূঁড়ায় গোলাকার গম্বুজ আছে। মিনারগুলোর উচ্চতা, ছাদের কার্নিশের চেয়ে বেশি। সামনের দুটি মিনারে প্যাঁচানো সিঁড়ি ছিলো এবং এখান থেকে আযান দেবার ব্যবস্থা ছিলো। এদের নাম ‘রওশনকোঠা’ ও ‘আন্ধারকোঠা।                                           মসজিদের ভেতরে বর্তমান স্তম্ভ বা পিলার মসজিদের ভেতরে ৬০টি স্তম্ভ বা পিলারই পাথর কেটে বানানো হয়েছে। এদের কয়েকটি আবার পাথরের বাহিরাবরণে ইটের গাঁথুনি দিয়ে ঢাকা ছিল। খুব সম্ভাব মসজিদের প্লাস্টার বিহীন দেওয়ালেন সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য এমনটা করা হয়েছিলো। বর্তমানে সংরক্ষণের জন্য পাথরের পিলারগুলো ঢেকে দেওয়া হলেও দর্শনার্থীদের জন্য একটি পিলার উন্মুক্ত আছে। আরও জানা যায়, সুলতান নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহের (১৪৩৫-৫৯) আমলে খান-উল-আযম উলুঘ খান-ই-জাহান (রঃ) সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে খলিফাবাদ রাজ্য গড়ে তোলেন। খানজাহান তার প্রশাসনিক রাজধানীতে শাসনকার্য পরিচালনা এবং বৈঠক করার জন্য একটি দরবার হল গড়ে তোলেন, যা ষাট গম্বুজ মসজিদ নামে পরিচিত। এর পরিকল্পনার সাথে দিল্লি ও লাহোরের বাদশাহী মসজিদের মিল রয়েছে। মসজিদটিতে তুঘলকি ও জৌনপুরী নির্মাণশৈলী এতে সুস্পষ্ট। কিভাবে যাবেন ঢাকার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ১০টা এবং সন্ধা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেঘনা, বনফূল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম ও দোলা পরিবহণের বেশ কিছু বাস ছেড়ে যায়। গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে সোহাগ, শাকুরা, হানিফ ও ইগল পরিবহণের গাড়ি ছাড়ে। এই বাসগুলোতে জনপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ভাড়া লাগে। এছাড়া ঢাকা থেকে খুলনাগামী আন্তঃনগর ট্রেন সুন্দরবন এক্সপ্রেসে খুলনা এসে সেখান থেকে বাসে বা সিএনজিতে করে বাগেরহাট আসতে পারবেন। কোথায় থাকবেন বাগেরহাটে থাকার জন্য তেমন ভাল ব্যবস্থা নেই, তবে মাঝারি মানের কিছু আবাসিক হোটেল আছে। রেল রোডে মমতাজ হোটেলে সুযোগ সুবিধা কম থাকলেও সেবার মান তুলনামূলক ভাল, তবে খরচ একটু বেশি। এছাড়া বাগেরহাট সদরে সরকারি গেস্টহাউস, হোটেল অভি (০১৮৩৩৭৪২৬২৩) ছাড়াও কেন্দ্রীয় বাস স্টেশন সংলগ্ন হোটেল আল আমিন (০৪৬৮-৬৩১৬৮, ০১৭১৮৬৯২৭৩৭) এবং হোটেল মোহনা (০৪৬৮-৬৩০৭৫, ০১৭২২৮৫৮৩১৩) তে ৪০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকায় রাত্রি যাপন করতে পারবেন। খুলনা থেকে বাগেরহাট বাসে যেতে মাত্র ১ ঘণ্টা সময় লাগে তাই রাত্রি যাপনের জন্য প্রয়োজনে চলে আসতে পারেন খুলনা বিভাগীয় শহরে। খাবার সুবিধা এখানে কিছু সাধারণ মানের খাবার হোটেল রয়েছে তাই খাওয়ার জন্য বাসস্ট্যান্ড কিংবা দরগার কাছে হোটেলগুলোতে যেতে পারেন। তবে অবশ্যই খাবারের মান ও দাম সম্পর্কে জেনে নিন। এসএ/

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা রোধে একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রতিবাদ

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাচাই এর নামের তালিকায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ আসছিল  অনেক আগেই। অনেক গণমাধ্যমের কাছে প্রতিকারের জন্য ধারনা দিয়েছেন, এখনো দিচ্ছেন। এর সঙ্গে নতুন  মাত্রা যোগ হলে খুলনা পাইকগড়াছা উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. রহমান মিস্ত্রীর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া।  রনাঙ্গনের এই মুক্তিযোদ্ধা স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, মৃত্যুর পর  যেন তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া না হয়। তিনি লিখেছেন, যেখানে হাজার হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা যাছাই-বাছাইয়ের নামে তালিকায় নাম ঢুকিয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছেন, সেখানে তিনি মৃত্যুর পর এই  রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিতে পারেন না। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার বিবেকের তাড়না আছে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার  যেখানে বীর উপাধি পেয়ে যাচ্ছেন, সেখানে তিনি এই উপাধি ধারন করতে পারেন না। প্রকৃতপক্ষে সরকার যখন মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির বয়সসীমা দুই বছর বাড়িয়ে দিয়েছিল, তখনই ভুয়া সনদ নেওয়ার হিড়িক পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ধরাও পড়েছেন। ছয়জন সচিবও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ দিয়ে চাকরির বয়স বাড়িয়ে নিয়েছেন। পরে তদন্তে তাদেরসহ আরও অনেকের অপকীর্তি ধরা পড়ে। এখনো প্রশাসনে এ রকম ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কর্মরত আছেন বলে অনেকে মনে করেন। মুক্তিযোদ্ধা আ. রহমান মিস্ত্রীর দাবি, বাছাইয়ের সুযোগ আরও অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হবেন এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সবিধা ভোগ করবেন। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা নিবেন, তাতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সেজে যদি  কেউ নকল বীরের মর্যাদা ও তকমা নিতে চায়, সেটা দেশ ও জাতীর জন্য লজ্জাজনক। মুক্তিযোদ্ধা আ. রহমান মিস্ত্রীর দাবি, সরকার যেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। নিশ্চিত করতে হবে, তালিকা যাচাই-বাছাই এর নামে একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা যেন তালিকাভুক্ত হতে না পারে। এসএইচ/

ডিসির সাথে প্রতারণা, যুবকের জেল

মাগুরা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সাথে প্রতারণা করতে এসে ইমরান শেখ (২২) নামে এ প্রতারক আটক হয়েছে। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জানা গেছে, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এক যুবক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের কার্যালয়ে আসেন। এসময় নিজেকে তিনি জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি সরকার অনুমোদিত ওই ফাউন্ডেশনের মাগুরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, তার পরিচয়পত্র দেখেই আমাদের সন্দেহ হয়েছিল। তার কাছে অপরাধ বিচিত্রা নামে একটি মাসিক পত্রিকার কয়েকটি কপি পাওয়া যায়। পরে সে স্বীকার করে যে, সে একজন প্রতারক। প্রতারণার জন্যই ঝিনাইদহের একজন তাকে আইডি কার্ড তৈরি করে দেয়। নির্বাহী হাকিম মো. খোরশেদ আলম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রতারককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।   আর

বিএনপির আস্থা ষড়যন্ত্রের ওপর: হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, বিএনপির আস্থা ষড়যন্ত্রের ওপর। দেশের জনগণ বিএনপি সরকারের সময়ের মতো জালিয়াতি মার্কা নির্বাচন কমিশন দেখতে চায় না। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিএনপির আস্থা না থাকলেও দেশের মানুষের আস্থা রয়েছে।শনিবার সকালে জেলার কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে এডুকেয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজর বার্ষিক ফল প্রকাশ ও পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে হানিফ বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি যাদের আস্থা নেই তাদের মূল আস্থার জায়গা হচ্ছে ষড়যন্ত্র। আর যাদের ষড়যন্ত্রের প্রতি আস্থা তারা জনগণের প্রতিও আস্থা রাখতে পারবে না। জনগণের প্রতিনিধির প্রতি আস্থা রাখতে পারবেন না এবং দায়িত্বশীল নির্বাচন কমিশনের প্রতি তাদের আস্থা রাখার কথাও নয়।  এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক ড. শাহীনুর রহমান, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কাজী মনজুর কাদির, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ রবিউল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান।   এসএইচ/

যশোরে গ্যারেজে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২

যশোরের একটি গ্যারেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুই জন নিহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায়  ৭টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান পুড়ে গেছে। যশোর-মাগুরা মহাসড়কের উপশহর এলাকার সোমবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। যশোর কোতোয়ালী থানার ওসি একেএম আজমল হুদা গণমাধ্যমকে বলেন, গ্যারেজের ভস্মীভূত কাভার্ডভ্যানের নিচ থেকে দুটি পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাদের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে নিহতরা ওই গ্যারেজের শ্রমিক।যশোর সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডের সময় আহত যশোর সদর উপজেলা বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শফিয়ার রহমানের ছেলে কাভার্ডভ্যানের সুপারভাইজার কবির হোসেন, একই উপজেলার রাহেলাপুরের আলম হোসেনের ছেলে ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি আশরাফুর রহমানসহ পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসক আব্দুর রশিদ জানান, কবির হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।স্থানীয়রা জানায়, রাত ৯টার দিকে বেনাপোল থেকে আসা ক্যামিকেলভর্তি একটি কাভার্ডভ্যান ঝালাই করা হচ্ছিল স্থানীয় বিপুলের গ্যারেজে। এ সময় আগুনের ফুলকি ছুটে কাভার্ডভ্যানটিতে আগুন লাগে। দ্রুত তা অন্য গাড়িগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। ওই গ্যারেজে থাকা অন্তত ৭টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান পুড়ে গেছে।যশোর ফায়ার সার্ভিস সুত্র জানিয়েছে,ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। যশোর, ঝিকরগাছা, মনিরামপুর ও অভয়নগরের ফায়ার স্টেশনগুলোও অগ্নিনির্বাপণের কাজে অংশ নেয়। এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।আর

মোরেলগঞ্জে জমি নিয়ে সংঘর্ষ, নিহত ২

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় দুই নারীসহ আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার সোনাখালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, উপজেলার চালিতাবাড়ি গ্রামের শাহজাহান শেখের ছেলে পলাশ শেখ (৩২) এবং একই গ্রামের তোরাব শেখের ছেলে ইব্রাহিম শেখ (৪৮)। তাদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের কোপ রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কামাল হোসেন মুফতি। উপজেলার পুঁটিখালি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম খান জানান, সোনাখালি গ্রামের আব্দুর রহিম খানের সঙ্গে প্রতিবেশী শহীদুল খানের এক বিঘা জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। বিরোধপূর্ণ জমিতে রহিম খান আমন চাষ করেন। প্রতিপক্ষ শহীদুল খান ১২-১৪ জন লোক নিয়ে ওই জমিতে ধান কাটতে যান। এ সময় রহিমের পাশের গ্রামের আত্মীয়-স্বজন এসে তাদের বাধা দিলে এ নিয়ে সংঘর্ষ বাধে। পুঁটিখালি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজান মিয়া শামীম জানান, ‘দুই পক্ষকে নিয়ে মীমাংসার জন্য বসার কথা ছিল। এ অবস্থায় কেন একটি পক্ষ বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান কাটতে গেল তা বুঝতে পারছি না। কারও উস্কানি আছে কি-না তা পুলিশ খতিয়ে দেখবে।’ একে/

বাগেরহাটে এমপির মেয়েকে ছুরিকাঘাত

বাগেরহাটে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হ্যাপি বড়ালের মেয়ে অদিতি বড়ালকে ছুরিকাঘাত করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। শনিবার বিকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে এ ঘটনা ঘটে। আহত অদিতি বড়াল (২৬) বর্তমানে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আট মাস আগেও একবার দুর্বৃত্তরা অদিতির ওপর হামলা করে বলে জানিয়েছেন সংসদ সদস্য হ্যাপি বড়াল। অদিতি রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেছেন। এমপি হ্যাপি বড়াল জানান, বড় মেয়েকে নিয়ে আজ তিনি বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বাগেরহাট আমলাপাড়া স্কুলে একটি সমাবেশে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে অদিতি বাড়ি ফেরার জন্য স্কুলের গেটের সামনে অপেক্ষা করছিল। এসময় দুর্বৃত্তরা এসে তাকে জিজ্ঞাসা করে, ‘তুমি কি এমপি হ্যাপির মেয়ে?’ হ্যাঁ বলার সাথে সাথেই তার পেটে ছুরি মেরে পালিয়ে যায় তারা। জেলা পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। কারা কেন এই হামলা চালিয়েছে, তা উদ্‌ঘাটন করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।     আর

১৯ বছর পর জামিন পেলেন সর্বহারা প্রধান

দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে কারাবন্দি সর্বহারা গ্রুপের প্রধান চুয়াডাঙ্গার নুরুজ্জামান লাল্টুকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সাথে তার বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে বিচারাধীন হত্যা মামলা চার মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতে নুরুজ্জামান লাল্টুর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম আরিফুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে নুরুজ্জামান লাল্টু তার বাহিনীসহ তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তখন থেকেই তিনি কারাগারে। তার বিরুদ্ধে শতাধিক মানুষ হত্যা করার অভিযোগে একাধিক মামলা ছিল। এর মধ্যে ১৯৯৩ সালে দায়ের করা একটি হত্যা মামলা বর্তমানে নিম্ন আদালতে বিচারাধীন। এ মামলায় গত আট বছর ধরে কোনো সাক্ষ্য হচ্ছে না। এ অবস্থায় জামিন আবেদন করেন নুরুজ্জামান লাল্টু।     আর

বাগেরহাটে কোচিং সেন্টারের প্রশ্ন দিয়েই সরকারি বিদ্যালয়ের পরীক্ষা!

বাগেরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির একটি বিষয়ে কোচিং সেন্টারে মডেল টেস্টে নেওয়া প্রশ্নপত্রেই বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এই অভিযোগ ওই বিদ্যালয়ের প্রভাতি শাখার খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক শেখ মো. বেল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে। তার কোচিং সেন্টারের ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়ণরত শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। শেখ মো. বেল্লাল হোসেন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি বিষয়ের প্রভাতি শাখার খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। দেড় বছর আগে তাকে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পর্যদ নিয়োগ দেন। মঙ্গলবার দুপুরে অভিযোগ পেয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্তে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শেখ আমজাদ হোসেনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সন্ধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক শেখ মো. বেল্লাল হোসেন স্কুল শেষে নিজ বাড়িতে কোচিং সেন্টার খুলে তাতে তৃতীয় শ্রেণির বেশকিছু শিক্ষার্থীকে ব্যাচ করে পড়ান। প্রায় পনেরো দিন আগে ওই শিক্ষক তার কোচিং সেন্টারে পড়া শিক্ষার্থীদের ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচিত’ বিষয়ে মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেন। গত ৯ ডিসেম্বর তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি’ বিষয়ে দেওয়া বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সাথে হুবহু মিল রয়েছে। তার কোচিং সেন্টারে পড়া শিক্ষার্থীদের মডেল টেস্ট পরীক্ষার এক নং প্রশ্ন থেকে তিন নং প্রশ্ন এবং প্রতিটি প্রশ্নের ক, খ, গ সব কিছু হুবহু মিল রয়েছে। ১০০ নম্বরের প্রশ্নপত্র সম্পূর্ণ একই। ওই শিক্ষক তার কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীদের ভাল নম্বর পাইয়ে দেওয়ার জন্য স্কুলের করা প্রশ্নপত্র আগেই পেয়ে গিয়েছিলেন। ওই শিক্ষক পলক্ষিার আগেই কিভাবে ওই প্রশ্নপত্র পেলেন এবং অন্য কোন কোন শিক্ষক এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত তা খুঁজে বের করতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি জানিয়েছেন। দুটি প্রশ্নপত্রে হুবহু মিল থাকার কথা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মতিন হাওলাদার বলেন, পরীক্ষার আগেই তৃতীয় শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচিত’ ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে বার্ষিক অনুষ্ঠিত হওয়ার অভিযোগ অভিভাবকদের কাছ থেকে পেয়েছি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি এই বিদ্যালয়ের আইসিটি বিষয়ের অস্থায়ী খণ্ডকালীন শিক্ষক। তিনি স্কুল শেষে আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তার গড়ে তোলা কোচিং সেন্টারে পড়ান। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনা তদন্ত করতে বিদ্যালয়ের সকারি প্রধান শিক্ষক শেখ আমজাদ হোসেনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই যারা জড়িত থাকবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রভাতি শাখার খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক শেখ মো. বেল্লাল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টার করলেও তার ফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্যদের সভাপতি বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। বর্তমান সরকারের অবস্থান কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তাদের তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসএইচ/

সুন্দরবনের শুটকি পল্লীতে নষ্ট হচ্ছে মাছ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার থেকে দুযোর্গপূর্ণ আবহাওয়ায় সুন্দরবনের দুবলারচরের বিভিন্ন শুটকি পল্লীতে মাছ শুকাতে পারছে না জেলে-মহাজনেরা। একদিকে রোদ না থাকাসহ কুয়াশা ও বৃষ্টিতে মাছ শুকাতে না পারায় ইতিমধ্যেই কয়েক কোটি টাকার কাচা মাছ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দুবলা শুকী পল্লীর দায়িত্বে থাকা ক্যাম্প ইনচার্জ ফরেস্ট রেঞ্জার কাজী মোকাম্মেল কবির। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় জেলেরা মাছ আহরণে যেতে পারছে না গভীর সমুদ্রে। নানা প্রতিকুলতা ও একের পর এর দুর্যোগের কারণে দুবলারচরের শুটকি পল্লীর জেলে-মহাজনেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তসহ গত বছরের চেয়ে এবছর শুটকি খাত থেকে মোটা অংকের রাজস্ব ঘাটতির আশংকার কথাও জানিয়েছেন এই বন কর্মকর্তা। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ ও শুটকি পল্লীর জেলে-মহাজন সূত্র জানায়, বঙ্গোসাগর পাড়ের সুন্দরবনের দুবলারচরে এখন মাছ শুকানোর পুরো মৌসুম চলছে। কিন্তু বঙ্গোপসাগরে হঠাৎ হঠাৎ নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়-বৃষ্টিতে মাছ ধরা ও শুটকিকরণের কাজ ব্যাহত হয়ে থাকে। দুবলার নিয়ন্ত্রণাধীন আশপাশের ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৩টি চরের কয়েক হাজার জেলে ও শতাধিক মহাজন এ সামুদ্রিক মাছ শুটকির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। এ সব চরে উৎপাদিত শুটকি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হয়ে থাকে। আর সুন্দরবন বিভাগ মাছের এই শুটকি পল্লী থেকে প্রতি মৌসুমে দুই কোটি টাকার অধিক রাজস্ব পেয়ে থাকে। তবে রাজস্বের এ পরিমাণ কম-বেশি নির্ভর করে আবহাওয়ার ওপরই। সুন্দরবনের শুটকি পল্লীতে থাকা মহাজনদের ডিপো (মাছ কেনার ঘর) ম্যানেজার মো. ফরিদ হোসেন ও আবু রায়হান বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত টানা ৫ দিনের দুযোর্গপূর্ণ আবহাওয়ায় জেলেরা সব জাল-নৌকা নিয়ে চরে অলস বসে রয়েছেন। মাছ ধরতে যেতে পারছে না। আর আগে তাদের আহরিত কয়েক কোটি টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রোদের অভাব ও বৃষ্টির কারণে শুকানোও সম্ভব না হওয়ায় তা পচেঁ নষ্ট হয়ে গেছে। খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মো. আমির হোসাইন চৌধুরী ও বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বঙ্গোপসাগর থেকে জেলেরা সব ধরনের ঝড়-ঝাপটা মোকাবেলা করেই নিরাপদে মাছ আহরণ করে সুন্দরবনের জেলে পল্লীতে শুকিয়ে থাকে। কয়েক দিন ধরে দুযোর্গপূর্ণ আবহাওয়ায় সুন্দরবনের দুবলারচরের বিভিন্ন শুটকি পল্লীতে মাছ শুকাতে পারছে না জেলে-মহাজনেরা। সামনে আরও কয়েক মাস শুটকি মৌসুম রয়েছে। দুযোর্গপূর্ণ আবহাওয়ায় কারণে জেলে- মহাজনদের এ ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে। দুবলা শুটকি পল্লীতে থাকা ফরেস্ট ক্যাম্প ইনচার্জসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঠিক রাজস্ব আদায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে সামুদ্রিক মাছ উল্লেখযোগ্য পরিমানে ধরা পড়ায় এবার আশা করছি শুটকি খাত থেকে এবার রাজস্ব আয় বাড়বে। তবে দুযোর্গপূর্ণ আবহাওয়ায় আরও বেড়ে গেলে রাজস্বের এ পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে। এসএইচ/

নড়াইল ও জামালপুর জেলা মুক্ত হয় ১০ ডিসেম্বর

আজ ১০ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে হটিয়ে মুক্ত হয় নড়াইল ও জামালপুর জেলা। ২৪ নভেম্বর কালিয়া এবং ৮ ডিসেম্বর লোহাগড়া মুক্ত হওয়ার পর, ৯ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা একত্রিত হয়ে নড়াইলে পাকিস্তানী বাহিনীর ওপর আক্রমণ শুরু করেন। ১০ ডিসেম্বর ভোরে মুক্তিযোদ্ধারা শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকায় অবস্থানরত পাকিস্তানী বাহিনীকে ঘিরে ফেললে তুমুল লড়াই শুরু হয়। এ সময় পাকিস্তানী বাহিনীর দুই সৈনিক নিহত হলে অধিনায়ক বেলুচ কালা খান আত্মসমর্পনের কথা জানায়। পরে ২২ পাকিস্তানী সৈন্য এবং ৪৫ জন রাজাকার আত্মসমর্পণ করে। ৯ ডিসেম্বর রাতভর জামালপুরে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর প্রধান ক্যাম্প পিটিআই ঘাঁটির উপর চারদিক থেকে আক্রমণ চালানো হয়। এ সময় ৪ শতাধিক পাকিস্তানী সৈন্য নিহত হয়। আহত হয় অনেকে। ১০ ডিসেম্বর হাজারো মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামী মানুষ ‘জয়বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে আকাশে উড়ায় লাল-সবুজের পতাকা।   /এমআর

সুন্দরবনে বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে ড্রোন জব্দ

সুন্দরবনে ঘুরতে আসা বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে একটি ড্রোন জব্দ করেছে বনবিভাগ। এই ঘটনায় বুধবার দুপুরে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার আজাদ কবির বাদী হয়ে বিদেশি পর্যটকদের নিয়ে ঘুরতে আসা স্থানীয় মাবানা ট্যুরস লিমিটেডের মালিক মো. নান্টুর বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা করেছে। মঙ্গলবার সকালে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলারচরের আলোরকোল এলাকা দিয়ে ওই ড্রোনটি জব্দ করা হয়। তবে তাদের কাউকে আটক করেনি বনবিভাগ। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদুল হাসান চৌধুরী বলেন, স্থানীয় মাবানা ট্যুরস লিমিটেড নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গত ৪ ডিসেম্বর বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে তিনদিনের জন্য মাল্টার ১২ জন বিদেশি পর্যটককে নিয়ে সুন্দরবনে ঘুরতে আসেন। ৫ ডিসেম্বর তারা সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলারচরের আলোরকোল এলাকায় পৌঁছে একটি ড্রোন উড্ডয়ন করে। ড্রোনটি উড়তে দেখে দুবলা স্টেশনে কর্মরত বনপ্রহরীরা সেখানে এসে তা নামিয়ে ফেলে তা জব্দ করে। পরে তাদের সুন্দরবন থেকে বের হয়ে যেতে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের আইন বিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে মাবানা ট্যুরসকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই ড্রোনে সুন্দরবনের কোন কোন এলাকার চিত্রধারণ করেছে তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মাবানা ট্যুরস লিমিটেড সুন্দরবনে বিদেশিদের নিয়ে প্রবেশের সময় তাদের কাছে যে ড্রোন রয়েছে তা গোপন করেছে। যা বন আইনের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। তাই বনবিভাগ মাবানা ট্যুরস লিমিটেডের বিরুদ্ধে বন আইনে একটি মামলা করেছে।   এসএইচ/

যশোরে দুর্বৃত্তের গুলিতে এনজিও কর্মকর্তা নিহত

যশোরে দুর্বৃত্তের ছোঁড়া গুলিতে প্রত্যাশা সমাজকল্যাণ সংস্থার এক এনজিও কর্মকর্তা নিহত হ‌য়ে‌ছেন। গত রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপশহর সি ব্লক এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম গোলাম কুদ্দুস ভিকু (৫০)। যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি কে এম আজমল হুদা বলেন, উপশহর সি ব্লক এলাকায় এক এনজিও কর্মকর্তা খুনের ঘটনা জানতে পেরে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। জড়িতদের আটকে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, গোলাম কুদ্দুস বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা এসে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এসময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে দুটি হাত বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে স্থানীয়রা তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। /টিআর / এআর        

কুষ্টিয়ায় ছুরিকাঘাতে সহকর্মীকে হত্যা

কুষ্টিয়ার ত্রিমোহনীতে সহকর্মীর ছুরিকাঘাতে রকি মণ্ডল (২৩) নামের এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত ১০ টার দিকে শহরতলির ত্রিমোহনী এলাকার হিসাব পারটেক্স কোম্পানির গেটে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রকি মণ্ডল মিরপুর উপজেলার তালবাড়ীয়া গ্রামের আনিস মণ্ডলের ছেলে। তিনি ত্রিমোহনীর এইচএনএস প্রেশারকুকার কোম্পানির একজন কর্মচারী। কুষ্টিয়া মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, রকি মণ্ডলের সঙ্গে একই কোম্পানিতে কর্মরত আসিক, নয়ন ও চন্দনের পূর্বশত্রুতা ছিল। গতকাল রাতে কাজ শেষ করে রকি ও চন্দন পৃথক বাইসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। ত্রিমোহনীর হিসাব পারটেক্স কোম্পানির গেট এলাকায় দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় রকির বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়। রকিকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চন্দনকে আটক করা হয়েছে।   একে/এমআর

জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের কোনো ভাবেই আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, যে চেতনায়, যে বিশ্বাসে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছিল তা আমরা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছি। আমরা বিশ্বাস করি, অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশে সবাই যার যার ধর্ম পালন করবে। বুধবার যশোরে রামকৃষ্ণ আশ্রম মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। যশোরের রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশন আয়োজিত তিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আজ ছিল সমাপনী আয়োজন। ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও আশ্রমের স্বামী পরদেবানন্দজী মহারাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, ভারতের চেন্নাইয়ের রামকৃষ্ণ স্টুডেন্টস হোমের সম্পাদক শকদেবানন্দজী মহারাজ ও পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সম্পাদক বিশ্বময়ানন্দজী মহারাজ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমরা যে কোনো মূল্যে এটাকে ধরে রাখতে চাই। আমাদের প্রশাসন দেশের জন্য জীবনবাজি রেখে এই সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের নির্মূল করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, হলি আর্টিজান ও শোলাকিয়ার ঘটনার পর জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দেশের জনগণ এক হয়ে কাজ করছে। নিরাপত্তা বাহিনী এদের দমন করার জন্য মাঝে মাঝে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতো। এখন গ্রাম বা শহরের মানুষ জঙ্গির অবস্থান প্রশাসনকে জানিয়ে দিচ্ছেন। পরে আমরা সেগুলো একে একে নির্মূল করছি।   আর/টিকে  

খুলনায় ট্রাক-প্রাইভেটকারের সংঘর্ষ, নিহত ২

খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটায় ট্রাক ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া পুলিশ কর্মকর্তাসহ (ওসি) আহত হয়েছেন আরো তিনজন। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে আড়ংঘাটার বাইপাস সড়কের মোস্তফার মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, কেশবপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা (৩৩), প্রাইভেটকার চালক মো. রফিকুল ইসলাম (২৮)। নিহত রফিকুল ইসলামের বাড়ি যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার গোবরা গ্রামে বলে জানা গেছে। আহতরা হলেন কেশবপুর থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন (৪৫), উপপরিদর্শক (এসআই) আল-আমিন (২৭) ও কেশবপুর এলাকার রাসেল রানা (২৮)। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত ৯টার দিকে খুলনা বাইপাস সড়কে মহানগরীর জিরো পয়েন্ট থেকে আপিল গেটগামী পাটবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে খুলনাগামী একটি প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকারের চালক রফিকুল ইসলাম নিহত হন। এছাড়া ট্রাকের চালকসহ চারজন আহত হন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সোহেল রানা মারা যান। /এমআর

© ২০১৮ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। একুশে-টেলিভিশন | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি